• শুক্রবার   ০৭ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৬ রমজান ১৪৪২

আজ প্রথম রমজান আজ পহেলা বৈশাখ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২১  

মুসলিম উম্মাহর সিয়াম সাধনার মাস রমজান। গতকাল দেশের আকাশে ১৪৪২ হিজরি সনের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ শুরু হচ্ছে পবিত্র এ মাস। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রাখতে শুরু করবেন। এদিকে বাংলা ১৪২৮ সনের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ আজ। দিনটিতে সাধারণত নানা আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগত জানালো হলেও করোনা আবহে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ কোনো ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে না এবার।

গতকাল মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জানান, বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। সে হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই তারাবির নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

রমজান মাসে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মসজিদে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে তারাবিসহ নামাজ আদায়ের বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সোমবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তেও সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ইতিপূর্বে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত মসজিদে জুমা ও জামাতবিষয়ক নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া রমজান মাসে কোনো ধরনের ইফতার মাহফিল আয়োজন করা যাবে না।

রমজান মাসে ইফতার মাহফিল করে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। এবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ইফতার মাহফিল করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

গতকাল রমজান মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর মসজিদগুলোয় সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা ও করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। বাসাবাড়িতেও তারাবির নামাজ আদায় করেন অনেকে। শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার প্রস্তুতি ও পরদিনের ইফতারের প্রস্তুতিও নেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

ডিজিটার মাধ্যমে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ছায়ানটের বর্ষবরণ :  করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবারও শারীরিক উপস্থিতিতে হচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং ছায়ানটের আয়োজনে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ। তবে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাবি চারুকলা অনুষদের ডিন ও চিত্রশিল্পী নিসার হোসেন। অন্যদিকে ডিজিটাল মাধ্যম ও টেলিভিশনের পর্দায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে ছায়ানট। এ ছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবে বলে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে জানিয়েছে।

ঢাবির চারুকলা অনুষদের ডিন ও চিত্রশিল্পী নিসার হোসেন বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউন বিবেচনা করে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সশরীরে কোনো মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হবে না। সীমিত আকারে স্বল্পসংখ্যক লোকজন নিয়ে শোভাযাত্রা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতির কারণে সেটি বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ভার্চুয়াল মিডিয়া এবং টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, ‘করোনা মহামারীর প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য গত বছরের মতো এবারও ছায়ানট ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতিতে সবার স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা বটমূলের ঐতিহ্যগত আয়োজন থেকে আমাদের নিরস্ত করেছে। অথচ প্রাথমিকভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল দর্শকশূন্য অবস্থায় অথবা পরিস্থিতি আরও বেশি প্রতিকূল হলে পহেলা বৈশাখ ভোরের অনুষ্ঠান আগেই রেকর্ড করে নেওয়া। সে লক্ষ্যে সম্মেলক দলের নিয়মিত মহড়াও চলছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির ক্রমান্বয় অবনতি এবং সরকারের সতর্কতামূলক বাস্তবিক সিদ্ধান্তসমূহ আমাদের মনে শিল্পীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা গভীরতর করে তোলে। আমাদের বেশ কজন শিল্পী ও কর্মী করোনা-আক্রান্ত। ফলে সবার নিরাপত্তা বিবেচনায় অনন্যোপায় হয়ে আমরা ডিজিটালি এবং পুরনো ও নতুন পরিবেশনের মিশ্রণে অনুষ্ঠান ঢেলে সাজাচ্ছি। বাংলা নববর্ষের প্রথম ভোরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ওই ঘণ্টাখানেকের সংকলন সম্প্রচার করবে। আমাদের বাংলা বর্ষবরণের প্রতীকী, সংক্ষেপ ও ডিজিটাল আয়োজনটি সাজানো হয়েছে মানুষের মঙ্গল কামনা এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে উজ্জীবনী গান, বাণী ও কথন দিয়ে। সংকট-প্রভাবিত রূঢ় বাস্তবতার নিরিখে, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে আপামর বাঙালির প্রাণের এই ঐতিহ্যর মহোৎসবের পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে না পেরে আমরা মর্মাহত এবং জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে আমাদের বিশ্বাস সুদিন ফিরবেই।’

এবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণজমায়েতও করা হচ্ছে না। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের কোথাও সশরীরে উপস্থিত হয়ে জনসমাগম করে কোনো বর্ষবরণের আয়োজন করা হচ্ছে না। নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের দেয়ালে বাংলা বর্ষবরণকে সামনে রেখে বরাবরের মতো এবারও আঁকা হয়েছে আল্পনা। চারুকলা অনুষদ ইতিমধ্যে বিভিন্ন রঙের মুখোশ, সরা ও নানারকম ফেস্টুনও তৈরি করেছে।