• বুধবার   ১৪ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ১ ১৪২৮

  • || ০২ রমজান ১৪৪২

আশুলিয়ায় অগ্নিকান্ডে ১০ দোকান ভস্মীভূত, অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১  

আশুলিয়ার শিমুলিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১০ দোকান ভস্মিভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, লকডাউনের কারণে বিকেল ৪টার দিকে তারা দোকানপাট বন্ধ করে চলে যায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বৈদ্যুতিক খুটি থেকে একটি তার ছিড়ে পাশের আব্দুর রহিম গায়েনের তামা কাসার দোকানের উপর পরে এবং আগুন ধরে যায়। মুহুর্তের মধ্যেই আগুন পাশের অন্যান্য তামা-কাসার দোকান, প্লাস্টিকের দোকান, সিলভারের দোকান, হোটেল, পানের দোকান, ফলের দোকান ও চায়ের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পরে ডিইপিজেড ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ারসার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। আগুনের তীব্রতা বেশী থাকায় পরবর্তীতে ধামরাই ফায়ারসার্ভিসের আরো দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে মোট ৪টি ইউনিট প্রায় এক ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

আগুনে আব্দুর রহিম গায়েন ওরফে হারানের দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল পুরে ছাই হয়ে যায়। তার দোকানে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার তামা-কাসা, পিতল, সিলভার, প্লাষ্টিক,. স্টীল সহ বিভিন্ন প্রকারের মালামাল ছিল। বেশকিছুদিন আগেই তিনি ১০ লক্ষটাকা লোন করে মালামাল ক্রয় করেছেন বলে জানান রহিম গায়েন।

পাশেই মুনসের এর দোকান। তার দোকানে প্লাস্টিক, ষ্টীল, সিলভার এর মালামাল সহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানান তার ছেলে সুমন আহম্মেদ।

তার পাশেই রয়েছে দীন ইসলামের পুরাতন তামা কাসার ভাঙ্গারির দোকান। তারও কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি লকডাউনের কারণে পুরান ঢাকা থেকে তামা কাসার ভাঙ্গারির মালামাল ক্রয় করে এনেছেন বলেও জানান তিনি।

পাশেই রয়েছে আরিফের প্লাষ্টিকের গোডাউন। তিনি এখানে থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে প্লাষ্টিকের মালামাল সরবরাহ করতেন। তার দোকানটি ও দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর পাশেই রয়েছে আব্দুল হাইয়ের কাসা পিতলের দোকান। তার দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেন।

আগুনে পুড়ে গেছে ওই বাজারের বিল্লো ঘোষের মিষ্টির দোকান, জয়নালের পানের দোকান, জাহাঙ্গীরের চায়ের দোকান, সুরত ও শাহ আলমের পানের দোকান, কুয়াত হোসেনের ফলের দোকানসহ মোট ১০টি দোকান।

শিমুলিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য তারেক আহাম্মেদ হিলারী জানান, খবর পেয়ে আমরা রাতেই এখানে এসে আগুন নেভানোর কাজে সহযোগীতা করেছি। আগুনে এখানকার ব্যবসায়ীদের বিশাল একটা ক্ষতি হয়ে গেল। এখানে বেশীরভাগ দোকান পাট হচ্ছে তামা-কাসার। যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশী হয়েছে। অগ্নিকান্ডে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি।

ডিইপিজেড ফায়ারসার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ৮ থেকে ১০টি দোকান পুড়ে গেছে।