• বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

  • || ১৯ রজব ১৪৪২

ইউপি চেয়ারম্যান জেলহাজতে, ভারপ্রাপ্ত হতে সদস্যদের কাণ্ড

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন প্রায় দুই মাস যাবত জেলহাজতে রয়েছেন। চেয়ারম্যান না থাকায় পরিষদের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েও ইউপি সদস্যদের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি। এতে পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়নের সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে বাঁশতৈল ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান মিল্টন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট নতুন পরিষদের প্রথম সভায় তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। এতে পরিষদের সদস্য শেফালী বেগমকে এক নম্বর, মোয়াজ্জেম হোসেনকে ২ নম্বর ও মো. আব্দুল মান্নানকে ৩ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে রেজুলেশন অনুমোদন করা হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে একটি হত্যা মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর জেল হাজতে রয়েছেন। আর দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ইউনিয়নবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অপরদিকে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক নম্বরে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আশিন হওয়ার বিধান থাকলেও রেজুলেশন বহিতে উল্লেখিত এক নম্বর সিরিয়ালে থাকা শেফালী বেগমের নামের পাশে ঘষামাজা করে তিন নম্বর এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা মো. আব্দুল মান্নানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা হয়েছে।

এছাড়া দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে দ্বিতীয় প্যানেল চেয়ারম্যান লেখা ঠিকই আছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিষদের চারজন সদস্য গত বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়টি পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়নের সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁশতৈল ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য শেফালী বেগম (৭, ৮, ৯) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের বিধান রয়েছে। তিনি এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান থাকায় দৈনন্দিন কাজ সচল রাখতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যোগাযোগ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন তার নামের পাশে ঘষামাজা করে তিন নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান লেখা হয়েছে।

এছাড়া তিন নম্বরে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা আছে। এ বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেককে তিনি জানিয়েছেন।
তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মান্নানের কাছে তার নামের পাশে ঘষামাজা করে এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান লেখার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই।

দুই নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান তিন নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পরিষদের রেজুলেশন বহিতে ঘষামাজা করে এক নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে তিন নম্বর লেখা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

বাঁশতৈল ইউপির সচিব মো. সোহেলুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নতুন পরিষদের প্রথম সভায় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। প্রথম সিরিয়ালে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে কিভাবে তিন নম্বর এবং তিন নম্বর সিরিয়ালে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যানের নামের পাশে এক নম্বর লেখা হয়েছে বিষয়টি আমার জানা নেই।

বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মিল্টন জেলহাজতে থাকায় পরিষদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ইউপি সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।