• শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪২

কবি শঙ্খ ঘোষের জীবনাবসান

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২১  

বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল কবি শঙ্খ ঘোষ আর নেই। মৃত্যুকালে শক্তিমান এ কবির বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।


বুধবার সকালে নিজ বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এ কবি।

বেশ কিছুদিন সর্দি-কাশিতে ভোগার পর গত সপ্তাহেই করোনা সংক্রমিত হন। এছাড়াও একাধিক বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন কবি। বাড়িতেই তিনি আইসোলেশনে ছিলেন। তবে ক্রমেই তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমছিল। বুধবার সকালে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

শঙ্খ ঘোষ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। তার সাদামাঠা জীবনে চিরকালই প্রচারবিমুখ ছিলেন তিনি। তবে, সর্বদা শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কথা বলতেন তিনি। নিজে বামপন্থি মনভাবাপন্ন হলেও বাম আমলে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুরের জমি অন্দোলনে গর্জে উঠেছিলেন কবি। তৎকালীন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হয়ে বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে পথেও নেমেছিলেন। পরবর্তীসময়ে মমতার বিরুদ্ধেও শঙ্খবাবুকে সোচ্চার হতে দেখা যায়। দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শাসকদল থেকেও।

শঙ্খ ঘোষ অধ্যাপনা করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতীতে। একদা যোগ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাইটার্স ওয়ার্কশপ’-এ। কবিতা লিখে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল।

বাংলা কবিতাজগতে শঙ্খ ঘোষ এক প্রবাদপ্রতিম নাম। অনুবাদ সাহিত্যেও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। ‘দিনগুলি রাতগুলি’, তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আছে ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’ । তিনি ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান ১৯৭৭ সালে। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করেও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শঙ্খঘোষ।  ২০১১ সালে পান পদ্মভূষণ পুরস্কার।

এদিকে বর্ষীয়ান ওই কবির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি শোকবার্তায় বলেন, ‘শঙ্খদার মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করছি। তার পরিবার এবং শুভানুধ্যায়ীদের সবাইকে সমবেদনা জানাই। কোভিডে মারা গেছেন শঙ্খদা। তা সত্ত্বেও যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়, মুখ্যসচিবকে তেমন নির্দেশ দিয়েছি। তবে শঙ্খদা গান স্যালুট পছন্দ করতেন না। সেটা বাদ রাখছি। তবে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেই সব ঠিক করা হবে। পরিবার না চাইলে আমরা কিছুই করবো না। ’

এছাড়া কবি শঙ্খবাবুর মৃত্যুতে শোকাহত বাংলার সাহিত্য ও নাট্য জগত।

কবি জয় গোস্বামী বলেছেন, জাতির বিবেক ছিলেন শঙ্খঘোষ। এভাবে চলে যাবে ভাবতে পারিনি। সাহিত্যিক তিলোত্তমা বলেন, বাঙালির অভিভাবকের মত ছিলেন তিনি।  

নাট্যকার কৌশিক সেন বলেন, সাধারণ বাঙালির সাহসের আর এক নাম শঙ্খঘোষ। কোনো দিনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত করেননি।

নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, সমাজের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বক্তা ছিলেন শঙ্খদা। শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা স্পষ্ট বক্তা ছিলেন তিনি।  

নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী বলেন, তার কবিতা বাঙালির সামাজিক শেকড়ে গাঁথা। কোনোদিনই মেরুদণ্ডহীন ছিলেন না তিনি। প্রকৃত অভিভাবকে হারালাম। তার ব্যক্তিত্ব পরিচিতি এক অন্য মাত্রা ছুঁয়েছিলো।