• রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭

  • || ২৪ রজব ১৪৪২

‘করোনা ফ্রন্টলাইনারদের শেখ হাসিনা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে’

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

 করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়ে যারা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড চালু করেছি। করোনার সময় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের সম্মানিত করতে এই শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। ক্রাইম রিপোর্টারসহ অন্যান্য সাংবাদিকরাও এই পুরস্কার পাবেন।

সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের নেতৃত্বে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ক্র্যাবের সহসভাতি নিত্য গোপাল তুত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুদ্র রাসেল ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম মিন্টু।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে জাতীয়ভাবে একশ জনকে এবং সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করা হবে। এবার আমরা করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সেবার জন্য এই অ্যাওয়ার্ড দেবো। পরবর্তী সময়ে যেকোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের জন্য আমরা এই অ্যাওয়ার্ড অব্যাহত রাখব।

তরুণদের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা ওয়াইজ ইয়ুথ ক্যাপিটালে ১০টি ইভেন্টে কাজ করছি। সেখানে মুসলিম বিশ্বের ৫৭টি দেশ অংশ নেবে। আমরা এবার মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি সারাবিশ্বের যুবকদের অংশগ্রহণ করানোর চেষ্টা করছি। আমরা ভার্চুয়ালি যে ইয়ুথ কনফারেন্স করেছি, সেখানে ৭৫টি দেশের সাড়ে ১২ হাজার যুবক অংশ নেন। এটা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্চুয়াল কনফারেন্স।

দেশে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, দক্ষ গাড়িচালক তৈরির লক্ষ্যে ৪০ হাজার যুবককে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, যুবকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য ১০০টি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, জেলায় জেলায় যুব উদ্যোক্তা মেলা, শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলেন্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটবল ও ক্রিকেটসহ সব খেলার উন্নয়নেও আরও কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষ সামনে রেখে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ খেলাধুলায় গণজোয়ার তৈরির লক্ষ্য ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। ফুটবল নিয়ে আমাদের যে অবস্থায় যাওয়ার সুযোগ ছিল, সেটা হয়তো যেতে পারিনি। কিন্তু ক্রিকেটে আমরা আল্লার রহমতে ভালো আছি। আসলে করোনা সংক্রমণজনিত কারণে আমাদের সব খেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনা না থাকলে সারাবছর খেলোয়াড়রা খেলত, প্রাকটিস করত। কিন্তু গত একবছর ঘরের মধ্যেই বন্দি থাকতে হয়েছে। খেলোয়াড়ররা অনেকদিন প্র্যাকটিস করতে না পেরে ফিটনেসে হয়তো কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা হয়তো বেশিদিন থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেশজুড়ে কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি প্রক্রিয়াজাত করার জন্য মুজিববর্ষে ১০০টি প্রসেসিং প্ল্যান্ট করার উদ্যোগ নিয়েছি। এতে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। কৃষি মন্ত্রণালয় আগে এই কাজটি করত। এখন আমরা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি আমরা যুবকদের জন্য যুব ব্র্যান্ড করেছি। আমরা যুবক কিচেন ও যুব শপ করছি। ঢাকায় ১০০টি ও ঢাকার বাইরে ১০০টি যুবশপ করব। এতে যুবারা তাদের উৎপাদিত পণ্য এসব শপে নিজস্ব ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী মার্চ মাসেই শরিয়তপুরে আমরা যুব উদ্যোক্তা মেলা করছি। পর্যায়ক্রমে দেশের সবগুলো জেলায় আমরা এই যুব উদ্যোক্তা মেলা করব। এতে যুব উদ্যোক্তারা তাদের পণ্যগুলো তুলে ধরতে পারবে।

অবৈধভাবে পরিচালিত ক্যাসিনোর কারণে কিছু ক্লাব বন্ধ করে দেওয়ায় খেলাধুলা চর্চায় সমস্যার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার আওতাভুক্ত নয়। কিছু ক্লাবের খেলাধুলার টিম রয়েছে। তাদেরকে যেন খেলাধুলার অনুমতি দেওয়া হয়, এ বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাব। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলব, ক্লাবগুলোর যেন অনৈতিক কোনো কাজে জড়িত হতে না পারে, সেদিকে যেন তারা নজরদারি রাখে।