• বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

জিডি করায় সমাজচ্যুত

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২১  

থানায় অভিযোগ করায় ঢাকার ধামরাইয়ে একটি পরিবারকে ১৫ দিন ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে। তারা কোনো বাড়িতে যেতে পারছে না। তাদের কাছে কোনো কিছু বেচা হয় না। এমনকি তিন মাসের দুই শিশুকে টিকা দিতে মানা করা হয়েছে। ঘটনাটি ধামরাই উপজেলার সাইদপাড়ার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরেশ চন্দ্র রাজবংশী, পাণ্ডব রাজবংশী, ধীরেন্দ্র রাজবংশী ও লক্ষ্মণ চন্দ্র রাজবংশী পাশাপাশি ঘরবাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। তাদের চলাচলের সুবিধার্থে এডিবির প্রকল্প থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে হেঁটে চলাচলের রাস্তা তৈরি করে দেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম। হরেশের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জের ধরে ওই রাস্তায় ঘর উত্তোলন করে চলাচল বন্ধ করে দেন লক্ষ্মণ। এ নিয়ে ধামরাই থানায় হরেশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি তুলে নিতে হরেশকে চাপ সৃষ্টি করেন সমাজের মাতবর সাধু রাজবংশী, প্রেমা রাজবংশী, সুরেন্দ্র রাজবংশী ও অনিল রাজবংশী। কিন্তু রাস্তা থেকে ঘর অপসারণ না করায় জিডি প্রত্যাহার করেননি হরেশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রভাবশালী লক্ষ্মণের পক্ষ নিয়ে সমাজপতিরা গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পঞ্চায়েতের মাধ্যমে হরেশকে সমাজচ্যুত করেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হরেশের দুই ছেলের ঘরের তিন মাসের দুই শিশুসন্তানকে টিকা দিতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই গ্রামের নির্ধারিত টিকাদান ক্যাম্পেইন ধলু রাজবংশীর বাড়িতে। কিন্তু সমাজপতি সাধু, প্রেমা, সুরেন্দ্র, অনিল ও ক্ষীর রাজবংশীর নির্দেশে ধলুর বাড়ি থেকে তাদের শিশুদের টিকা দিতে মানা করা হয়। পরে ওই বাড়িতে না যাওয়ার শর্তে সেদিন প্রথম ডোজ টিকা দিয়ে নিয়ে আসেন শিশু দুটির মা। এই ঘটনা পরিবারটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থানায় গিয়ে জানায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, হরেশের আত্মীয় এক প্রতিবেশীর মেয়ের বিয়ে ছিল গত সোমবার। সেখানে হরেশের পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অষ্টপ্রহরে (ধর্মীয় অনুষ্ঠান) তাদের অংশ নিতে দেননি সমাজপতিরা।

হরেশ রাজবংশী বলেন, ‘আমাকে অন্যের বাড়িতে যেতে নিষেধ করেছেন মাতবররা। অন্যদেরও আমার বাড়িতে আসতে দেন না। চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।’

লক্ষ্মণ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, ‘আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এক কোদাল মাটিও ফেলেনি। হরেশ খারাপ লোক, তাকে রাস্তা দিয়ে চলতে দেওয়া হবে না।’

ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, ‘সরকারি টাকায় নির্মিত রাস্তায় লক্ষ্মণ ঘর তুলে হরেশের পরিবারের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। লক্ষ্মণ কাউকে মানছেন না। হরেশকে একঘরে করে রাখার ঘটনা সত্য। তার ওপর জুলুমই করা হচ্ছে।’

সমাজপতি অনিল রাজবংশী বলেন, ‘হরেশ রাজবংশীর পরিবার আমাদের কথা শোনে না। তারা আমাদের মানে না। যা করতে বলি, তা করে না। তাই তাদের সমাজ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ধামরাই থানার পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘কাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে এটা অপরাধ। টিকাদানে বাধা দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, ‘কাউকে সমাজচ্যুত করা যাবে না। যদি কেউ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’