• রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১০ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১৭২

ঢাকাকে ‘মসজিদের শহর’ বলা হয় কেন?

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

রাজধানী ঢাকাকে মসজিদের শহর বলা হয়। ঢাকার ছোট অলি-গলি থেকে শুরু করে বড় রাস্তার পাশেও মসজিদ পাওয়া যায়। ঢাকায় কতগুলো মসজিদের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও, বলা হয় মসজিদের শহর। 

মূলত মুঘল আমল থেকেই মসজিদের শহরে পরিণত হয় ঢাকা। বর্তমানে নতুন অনেক মসজিদ নির্মাণ হলেও প্রাচীন মসজিদের সৌন্দর্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।

ঢাকার ইতিহাস ৪০০ বছরের পুরনো। বর্তমানে, ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। এর একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রাক্-মুসলিম আমলে ঢাকার বিষয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা দুরূহ। 

তবে বিভিন্ন সূত্র মতে, সুলতানি আমলে এটি একটি নগর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে  ঢাকা। মুঘল আমলে প্রাদেশিক রাজধানীর মর্যাদা পাওয়ার পর এটি প্রসিদ্ধি লাভ করে।

 

অতীতের বাইতুল মোকাররম মসজিদ

অতীতের বাইতুল মোকাররম মসজিদ

মুঘল আমলে ঢাকার নাটকীয় উত্থান ও উন্নয়ন হয়েছিল। প্রথমত এর সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থান, রাজধানী হিসেবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি ধনী ও সম্পদশালী প্রদেশের উপ-রাজধানী হিসেবে। এর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব, এর সমৃদ্ধ অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্য এবং এর বিখ্যাত উৎপাদন দ্রব্য বিশেষত মসলিনের জন্য।

উন্নয়নের নতুন ধারা এবং সমৃদ্ধির নতুন যুগের সূত্রপাতের মাধ্যমে ১৮৪০-এর দশক থেকে ঢাকার নগর ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। নগর উন্নয়নের এই যাত্রা তখন থেকেই অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। 

স্থাপত্য মুঘল আমল থেকে ইন্দো-ইসলামিক রীতিতে নির্মিত মনোরম মসজিদগুলোর নির্মাণ ঢাকায় বাড়তে থাকে। মসজিদের সংখ্যাধিক্যের কারণে ঢাকা ‘মসজিদের শহর’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 

 

বিনত বিবিরি মসজিদ

বিনত বিবিরি মসজিদ

‘মসজিদের শহর’ ঢাকা এক দিনে গড়ে ওঠেনি। ১৮৩২ সালে ঢাকার তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট জর্জ হেনরি ওয়াল্টার এক রিপোর্টে উল্লেখ করেন, তৎকালীন ঢাকায় মসজিদের সংখ্যা ছিল ১৫৩টি। যার সংখ্যা ধীরে ধীরে আরো বাড়তে থাকে। 

এরপর ১৯ শতকে, কিছুটা মসজিদ নির্মাণ কম হলেও পাকিস্তান আমলে এ নির্মাণশৈলী নতুন মোড় নেয়। পরবর্তীতে মুসলমানের সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারণে মসজিদ নির্মাণ শুরু হয়।

ক্রমেই ঢাকা পরিণত হতে থাকে অসংখ্য মসজিদের শহররূপে। বর্তমানে ‘মসজিদের শহর’ ঢাকায় কতটি মসজিদ আছে- এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়া কঠিন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের হিসাব অনুসারে, ঢাকায় বর্তমানে ১০ হাজার মসজিদ আছে। তার মধ্যকার কয়েকটি সম্পর্কে চলুন জেনে নেয়া যাক- 

 

মুসা খাঁর মসজিদ

মুসা খাঁর মসজিদ

বিনত বিবির মসজিদ

পুরনো ঢাকার নারিন্দা এলাকায় অবস্থিত মধ্যযুগীয় মসজিদ। মসজিদটি দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি ঢাকার প্রথম মসজিদ। মুঘল সেনাপতি ইসলাম খানের ঢাকা আগমনের প্রায় ১৫০ বছর আগে বাংলার স্বাধীন সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মিত হয়। 

তবে এখন এ মসজিদের বেশ বেহাল দশা। মসজিদ কমিটির অবহেলা আর প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের উদাসীনতার কারণে এটির আদল ও কাঠামো হারিয়ে যেতে বসেছে। বদলে ফেলা হচ্ছে এটির পুরনো ঐতিহ্য।

 

চক বাজার শাহী মসজিদ

চক বাজার শাহী মসজিদ

মুসা খাঁর মসজিদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের উত্তর-পশ্চিম কোনে মুসা খাঁর তৈরি মসজিদটি তার একটি দৃষ্টান্ত। সেই আমলে শহীদুল্লাহ হল এলাকাটি বাগ-ই-মুসা খাঁ বা মুসা খাঁর বাগান নামে পরিচিত ছিল। তিনি ছিলেন বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈসা খাঁর পুত্র। মসজিদের পাশেই রয়েছে তার কবর। 

তবে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন এটি মুসা খাঁর আমলে তৈরি হয়নি। এর স্থাপত্যরীতি দেখে তারা ধারণা করছেন এটি শায়েস্তা খাঁর আমলে নির্মিত। তাদের মতে, মসজিদটি নির্মাণ করেছেন মুসা খাঁর পুত্র দিওয়ান মুনওয়ার খান। আনুমানিক ১৬৭৯ সালের দিকে তিনি এটি নির্মাণ করেন।

 

কর্তালাব খান মসজিদ

কর্তালাব খান মসজিদ

চক বাজার শাহী মসজিদ

পুরনো ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত মুঘল আমলের মসজিদ। মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খান এটিকে ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করেন। তিনটি গম্বুজ আর বিশাল মিনার এ মসজিদটির মূল আকর্ষণ।

কর্তালাব খান মসজিদ

পুরনো ঢাকার বেগম বাজারে অবস্থিত এ মসজিদটি বেগম বাজার মসজিদ নামেও পরিচিত। ১৭০১ থেকে ১৭০৪ সালের মধ্যে নির্মিত এই মসজিদটি তৎকালীন দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খানের নামে করা হয়। মুর্শিদ কুলি খান কর্তালাব খান নামেও পরিচিত ছিলেন।

তারা মসজিদ

 

তারা মসজিদ

তারা মসজিদ

মুঘল স্থাপত্যশিল্পের ঐতিহ্যকে ধারণ করে পুরান ঢাকায় নির্মাণ করা হয় তারা মসজিদ। সতেরো শতকের দিল্লি, লাহোর আর আগ্রায় নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনার আদলেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। 

মসজিদটির অবস্থান পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ৬/৩ আবুল খয়রাত রোডে। ‌পরে ১৯২৬ সালে ঢাকার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী মসজিদটির সংস্কার করেন।

হাজী শাহবাজ মসজিদ

 

হাজী শাহবাজ মসজিদ

হাজী শাহবাজ মসজিদ

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদ। মুঘল শাসনামলে শাহজাদা আযমের সময়কালে ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে এ মসজিদটি নির্মিত হয়। হাজী শাহবাজ নামে একজন অভিজাত ধনী ব্যবসায়ী এটি নির্মাণ করেন।

লালবাগ শাহী মসজিদ

 

লালবাগ শাহী মসজিদ

লালবাগ শাহী মসজিদ

ঢাকার লালবাগ কেল্লার পাশে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদ। ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ঢাকার উপ-শাসক সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রপৌত্র ফররুখশিয়রের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি নির্মিত হয়।

খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

 

খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ

লালবাগ কেল্লার আধা কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল ১৭০৪-০৫ খ্রিস্টাব্দে। মসজিদে পাওয়া দুটি ফার্সি অনুলিপি অনুযায়ী খান মোহাম্মদ মৃধা নামক জনৈক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।

কসাইটুলি মসজিদ

 

কসাইটুলি মসজিদ

কসাইটুলি মসজিদ

পুরান ঢাকার কসাইটুলির কে পি ঘোষ রোডের এ মসজিদ ‘কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। এর আরেক নাম ‘চিনির টুকরা মসজিদ’। হিজরি ১৩৩৮ সনে জনৈক ব্যবসায়ী আবদুল বারি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

 

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

রাজধানী ঢাকায় একটি বৃহৎ মসজিদ এটি। এটি নির্মাণের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটে। ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদের মূল অবকাঠামো মক্কা শরীফ এর কাবা এর মতো।