• শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪২

ফেরি বন্ধ, পাটুরিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে গাড়ি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২১  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দুটি ফেরি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী যান পারাপার করা হচ্ছে। এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ এলাকায় তিনটি স্থানে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সড়ক পথে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে ফেরি পারের জন্য আসা ব্যক্তিগত গাড়ি উল্টোদিকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ফেরি বন্ধ থাকার পরও যেসব যাত্রী ঘাটে এসেছেন তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে।’ ভোগান্তি এড়াতে যাত্রীদের পাটুরিয়ায় না আসার পরামর্শ দেন তিনি।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম রুহুল আমীন রিমন বলেন, ‘পাটুরিয়া ঘাটের প্রবেশদ্বারে মহাসড়কের টেপড়া বাসস্ট্যান্ডে বিজিবি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রবিবার সকালে পাটুরিয়ায় যাত্রীদের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা কাজ করছেন। ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া ঘাটে আসা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। শৌচাগার ও খাবার হোটেলের অভাবে নারী ও শিশু যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।


অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশে লকডাউন চলছে। এরই মধ্যে মাত্র দুটি ছোট ফেরি দিয়ে এতদিন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হয়। তবে ঈদ উপলক্ষে শুক্রবার থেকে এই নৌপথে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এজন্য শুক্রবার দুপুরের পর থেকে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ি পারাপার করতে হয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এসব যাত্রীরা ফেরিতে গাদাগাদি করে ফেরিতে ওঠে পড়ে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ওইদিন সন্ধ্যায় ফেরি চলাচল আবার বন্ধ রাখা হয়।

রবিবার সকালে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ফেরির অপেক্ষায় শতাধিক যাত্রী নদী পারের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৯টার দিকে দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ফেরি শাহ আলী পাটুরিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ভেড়ে। আনলোড করার পরপরই যাত্রীরা ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে ফেরিটি যাত্রী না উঠিয়ে চলে যায়।

পারাপার বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় যাত্রীরা অবস্থান করছেন। পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায় পাঁচটি ফেরি নোঙর করে রাখা হয়েছে।

এদিকে মানিকগঞ্জে তিন প্লাটুন বিজিবির সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। ঘাট এলাকায় শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবিরসহ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ওসি জানান, চলমান লকডাউনে সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘাট এলাকায় তারা কাজ করছেন।

আরিচা ঘাট

আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে যাত্রীদের চাপ একেবারেই কম ছিল। এই নৌপথে তিনটি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। এই নৌপথে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আরিচা ঘাটের অদূরে নদীর চরে ট্রলার ভিড়িয়ে যাত্রীদের তোলা হয়।

আরিচা চার নম্বর ঘাটের অদূরে পশ্চিমে যমুনার চরে একটি একটি ট্রলারে করে অর্ধশতাধিক যাত্রী ট্রলারে তোলা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা এসে ট্রলার থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেন। ট্রলারের ইঞ্জিন চালু করার হাতল জব্দ করা হয়। পরে এসব যাত্রী ফেরি ‘বেগম রোকেয়া’তে গিয়ে ওঠেন।