• শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১০ ১৪২৭

  • || ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৬০

বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর ২০২০  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য শুধু একটি প্রতিকৃতি নয় বরং এই ভাস্কর্য বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। জাতির পিতার নেতৃত্বে পাকিস্তানের হায়েনারদের কাছ থেকে আমাদের এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা মানে বাংলাদেশকে অবমাননা করা। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সূতায় গাঁথা। দেশে যখন নারী নির্যাতন হয়, তখন মৌলবাদীরা কথা বলেন না। বক্তব্য দেয় না। যখন ছেলেদের মাদ্রাসায় বলাৎকার করা হয়, মাদ্রাসায় হিজাব পরা, বোরকা পরা ছাত্রীদের রুটিন করে করে ধর্ষণ করা হয় তখন এই সমস্ত ধান্দাবাজ মৌলবাদীরা কিছু বলে না।

গতকাল রাজধানীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ক‚টক্তির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত একাধিক মানবন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে মানববন্ধন করে যুব মহিলা লীগ। রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দফতরের সামনে আইইবি, আইইবি ঢাকা কেন্দ্র এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ (বিপিপি) এই মানববন্ধন করে। এছাড়া শাহাবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মানিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেছেন, দেশে যখন নারী নির্যাতন হয়, তখন মৌলবাদীরা কথা বলেন না। বক্তব্য দেয় না। যখন ছেলেদের মাদ্রাসায় বলাৎকার করা হয়, মাদ্রাসায় হেজাফ পরা, বোরকা পরা ছাত্রীদের রুটিন করে করে ধর্ষণ করা হয় তখন এই সমস্ত ধান্দাবাজ মৌলবাদীরা কিছু বলে না। মৌলবাদীরা একসময় মাইকে কথা বলা নিষিদ্ধ-হারাম বলতো। এখন প্রতিনিয়ত তারা মাইকে কথা বলে। তারা জঙ্গিবাদের পক্ষে কথা বলে। তারা নারী নির্যাতনের পক্ষে কথা বলে। তারা এক সময় ছবি তোলাকে হারাম বলতো। তারা এখন ছবি তুলে। ফটোশেসন দেখলে কে আগে যাবে, এখন লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। এই সমস্ত জঙ্গিবাদির অপব্যাখায় বাংলাদেশের মানুষ বিভ্রন্ত হবে না। বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, মৌলবাদী নেতারা বলছে দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না। মৌলবাদী নেতার শিল্পকর্ম, ভাস্কর্যের আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না। তারা অশিক্ষিত। তারা শুধু বোঝেন ইসলাম নিয়ে অপরাজনীতি করা। তারা বোঝেন ওয়াজ করে কিভাবে নারীদের অবদমিত করতে হবে। এসয়ম যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আইইবির মানবন্ধন
মানববন্ধনে আইইবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম হাজারীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিপিপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান, প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী এসএম মনজুরুল হক মঞ্জু, অনারারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু), সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও বিপিপি টেলিটক শাখার সভাপতি প্রকৌশলী মো. রনক আহসান ও আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের অনারারী সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যারা ১৯৭১ সালে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল আজ তারাই বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধিতা করার মাধ্যমে আবারো মৌলবাদী গোষ্ঠি দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করছে। স্বাধীনতার ইতিহাসের স্বাক্ষী আইইবি। তাই আইইবির সামনে আমারা বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য তৈরী করবো।
বক্তরা আরো বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ইসলামীক দেশগুলোতে সে সব দেশের জাতির জনকের ভাস্কর্য রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু মৌলবাদী গোষ্টি ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে দেশের শান্তি নষ্ট করতে চাইছে। কিন্তু তা হতে দেবো না আমরা প্রকৌশলীরা। মৌলবাদীরা যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেই দিকে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।
চিকিৎসকদের মানববন্ধন
মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্বাচিপ-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশ (বিএমএ)-এর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিএমএ-এর সম্মানিত মহাসচিব ডা. মোঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাচিপ-এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, চীফ এস্টেট অফিসার ডা. এ কে এম শরীফুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. কে এম তারিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহŸান জানান। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নেয়া ও চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি জোরালো আহŸান জানান।

জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর