• শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪২

বেশি ভাড়ায় কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২১  

পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে কর্মজীবী সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু যানবাহন সংকট আর বাড়তি ভাড়ার কারণে তাদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় তারা সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। জেলার বাসগুলো সরাসরি ঢাকার দিকে না যাওয়াতে তারা তাদের গন্তব্যে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। করোনা ঝুঁকি নিয়েই ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাস-ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে ঢাকা ও গাজীপুরে ফিরছেন তারা। ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসায় তাদের ভোগান্তি আরো বাড়ছে।


আজ  সকালে কিছু কিছু মানুষ দেখা গেলেও বিকেল ৩টার পর রাত পর্যন্ত গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কনসেন্দপুর গ্রামের আরমান হোসেন। চাকরি করেন গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার এক পোশাক কারখানায়। তিনি বলেন, ‘সামনে নাকি আরও কঠোর লকডাউন দিবে সরকার। তাই, তাড়াতাড়ি চলে আসছি। সময়মতো অফিসে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারাতে হবে।’

মকবুল হোসেন ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই হোপাড়া এলাকার সাফা সোয়েটার কারাখানায় চাকরি করি। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় জামালপুরের ইসলামপুর থেকে কর্মস্থলে যাচ্ছি। জামালপুর থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ৯০০ টাকা ভাড়া দিয়ে মাওনা পর্যন্ত আসতে পারছি। সব জায়গাতেই কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।’

জামালপুর সদর উপজেলার শৈলেরকান্দা গ্রামের আব্দুল কাদের শ্রীপুরের এস কিউ সোয়েটার করাখানায় কোয়ালিটি সেকশনে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে আসছি। সঙ্গে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে। সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানদের কথা ভেবে বেশি ভাড়া দিয়ে প্রাইভেটকার ভাড়া করে আসছি।’

রাজেন্দ্রপুর বাস স্টেশনে কথা হয় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবারড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। আগামীকাল কারখানা খুলবে। এ পর্যন্ত সিএনজি ও অটোরিকশায় আসছি। বাস সরাসরি গাজীপুর আসছে না। বাড়তি ভাড়া দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে গন্তব্যে আসতে পেরেছি।’

শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার কালীবাড়ী থেকে আসা কারখানা শ্রমিক আনোয়ার হোসেন ও রফিক মিয়া জানান, যেসব কারখানায় অর্ডার বেশি সেসব কারখানায় ৩/৪ দিন ছুটি দেওয়া হয়েছে। অনেক কারখানা পুরোপুরি না খুলে শুধু শিপমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সেকশন খোলা রাখা হয়েছে। ছুটি ৬ দিন থাকলেও ভিড় এড়াতে আগেভাগে চলে এসেছেন তারা। ভাড়া বেশি নিলেও রাস্তা ফাঁকা থাকায় কম সময়ে এবং আরামে আসতে পেরেছেন তারা।


এদিকে, জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। কোনো ট্রাক বা পিকআপ দাঁড়াতে দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। নারী-পুরুষ, শিশু গাদাগাদি করে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই খালি টাক ও পিকআপে ওঠে কর্মস্থলে যাচ্ছেন।

ঢাকার মগবাজারে ব্যবসা করেন গফরগঁওয়ের আব্দুল জলিল ও আকতার হোসেন। তারা বলেন, ‘বছরের দুটি ঈদে বাড়িতে আসি। এছাড়া বাড়িতে আসা হয় না। বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখাও হয় না। সব সময় তাদের জন্য মন কাঁদে। বছরের দুই ঈদে ভোগান্তি নিয়েই বাড়িতে ছুটে আসি।’

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা মেনে কাজ করছেন তারা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে পুনরায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাই এ মুহূর্তে গন্তব্যে যাওয়া গাড়িগুলো চেক করার সুযোগ নেই। কারণ, একটি গাড়ি থামিয়ে দিলে শতশত গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের লেগে যায়। এতে কর্মস্থলে যাওয়া যাত্রীরা আরো বেশি বিরক্ত ও বিড়ম্বনায় পড়বে।