• রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১০ ১৪২৭

  • || ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৭৮

মজবুত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  

টেলিভিশনের অভিনয়জগৎ আর পশ্চিমা বিলাসী জীবন পেছনে ফেলে অজপাড়াগাঁয়ে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এলাকার হাসনা হেনা। নোনা জমিতে একই সঙ্গে গড়ে তুলেছেন হাঁস-মুরগির খামার, বাণিজ্যিকভাবে মাছ, সবজি ও ধান চাষের ব্যবস্থা। মাত্র দুই বছরে তার সাফল্য দেখে গ্রামের অনেক নারীই বাড়ির আঙিনা বা জমিতে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন সমন্বিত কৃষি খামার। এভাবে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলতে পারলে মজবুত হবে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত। জানা যায়, বাংলাদেশ টেলিভিশনে চলচ্চিত্রবিষয়ক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ছায়াছন্দ’, ‘ছায়াবাণী’ করে সাড়া ফেলেছিলেন খুলনার তরুণী হাসনা হেনা। এরপর প্রায় ১৪ বছর স্বামী-সন্তানসহ কাটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু একসময় অস্তিত্বের টানেই ফিরে আসেন গ্রামে। দুই বছর ধরে দাকোপের পানখালীতে গড়ে তুলছেন সমন্বিত কৃষি খামার। ‘হাসনা হেনা এগ্রো ফার্ম’ নামের এ খামারে একই সঙ্গে চলছে হাঁস-মুরগি ও ভেড়া পালন। পুকুরের পাশে বাঁশের উঁচু পাটাতনে সনাতন পদ্ধতিতে ডিম থেকে মুরগি উৎপাদন ও বড় করে বাজারে বিক্রি করা হয়। লাগানো হয়েছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। সেই সঙ্গে ৬ বিঘা জমিতে চলছে চিংড়ি ও কার্প জাতীয় মাছের চাষ। রয়েছে ধান চাষের ব্যবস্থাও। হাসনা হেনা বলেন, ‘দাকোপের নোনা জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার করা বাড়তি চ্যালেঞ্জ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে হাইওয়ের পাশে শিপ ফার্মিং ও ফিশ ফার্ম দেখেছি। তারা ভেটকি বা কার্প মাছ ঘরের ভিতরে বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করে।’

নোনা জমিতে চিংড়ি চাষের জন্য গভীর করে কাটা পুকুর-নালার মাটি দুই পাশের পাড়ে উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। নতুন মাটিতে লবণ তুলনামূলক কম থাকায় সেখানে চলছে কুমড়া, লাউ, টমেটো, ঢেঁড়স, শিমসহ শীতকালীন শাকসবজির চাষ। এ ছাড়া নদীর নোনা পানি ঘেরে না ঢুকিয়ে আবদ্ধ হালকা মিঠাপানিতে পরীক্ষামূলক বাগদা চিংড়ি চাষ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে মিশ্র সাদা কার্প মাছের চাষ। প্রথম বছরেই উৎপাদিত ফসল-মাছ বিক্রি করে পরিচালন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন তুলতে পেরেছেন হাসনা হেনা। এদিকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহিত করছেন এই নারী উদ্যোক্তা- জানালেন উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির খুলনা বিভাগীয় প্রধান শামীমা সুলতানা শিলু।

তিনি বলেন, ‘এই নারী উদ্যোক্তাকে দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এভাবে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলতে পারলে মজবুত হবে গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত।’

অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর