• বৃহস্পতিবার   ১৫ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২ ১৪২৮

  • || ০৩ রমজান ১৪৪২

মশায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২১  

মশার যন্ত্রণায় নাজেহাল রাজধানীবাসী। দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও মিলছে না মুক্তি। সন্ধ্যার পর বাইরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দায়। বাসায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অগনিত মশা ঢুকে পড়ছে ঘরে। এদিকে খুদে প্রাণীটির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছেন নগরবাসী। মশারি, কয়েল, অ্যারোসল, স্প্রে, ধূপ, ইলেকট্রিক ব্যাট, ইলেকট্রিক আলোর ফাঁদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে মশা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। আবার অনেকেই অনলাইনে মশা মারার কোনো যন্ত্র দেখলেই ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাই না করেই কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানালায় নেট লাগানোর ব্যবসা শুরু করছেন। ধাতব নেট লাগানোর ব্যবস্থা নেই যেসব জানালায়, সেখানে বিশেষ কায়দায় লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মশারির কাপড়। প্রতি বর্গফুট মশারি লাগাতে খরচ নিচ্ছে ৩৬-৪০ টাকা।

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, মশার কামড়ে বাড়িতে অতিষ্ঠ অবস্থা। মশারি টানিয়ে ঘুমালেও শান্তি নেই। মশারির ফাঁক গলে ঢুকে পড়া মশা মারতে গিয়ে রাতের ঘুম নষ্ট হয়। কলাবাগানের বাসিন্দা শাহিনা ফারজানা বলেন, শীতের শুরু থেকেই মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। মশা নিয়ে খুব ভয়ে আছি। মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম বাড়াতে হবে। অনিয়মিতভাবে ধোঁয়া দিয়ে মশা তাড়ানো সম্ভব নয়।

রাজধানীর বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা গেছে, দুইমাস আগের তুলনায় মশারি, কয়েল, অ্যারোসল, স্প্রে, মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট বিক্রি অন্তত কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ইলেকট্রিক ব্যাট। গতকাল ভাটারায় মশারি স্টোরে গিয়ে দেখা যায় বিরামহীনভাবে চলছে মশারি তৈরির কাজ।

অনিচ্ছুক এক মশারি দোকানদার বলেন, দুই মাস আগের তুলনায় মশারির চাহিদা অন্তত সাত-আট গুণ বেড়েছে। প্রতি বছরই এই সময়ে মশারি বিক্রি বেড়ে যায়। সারা বছর মশারি তৈরি করে গুদামজাত করে রাখি। এ সময় আমরা বিক্রি করে থাকি। তবে এখন অনেকে খাটে টাঙানো মশারির বদলে মশারির গজ কাপড় কিনে জানালায় লাগাচ্ছেন। এটাও আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। শুধু বাসায় গিয়ে লাগিয়ে নিতে হয়। এতে পুরো ঘরটা নিরাপদ থাকছে।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, দৈনিক পাঁচ সাতটি মশা মারার ব্যাট বিক্রি হচ্ছে। এটা দুমাস আগে কল্পনা ও করা যায়নি। ধোঁয়া না হওয়ায় অনেকেই মশা মারতে ইলেকট্রিক ব্যাটের দিকে ঝুঁকছে। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১০ মাসের মধ্যে জানুয়ারির শেষদিকে ঢাকায় মশার ঘনত্ব চার গুণ বেড়েছে। আর মশা নিয়ন্ত্রণে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে চলতি মার্চের মধ্যে মশার ঘনত্ব বেড়ে চরমে পৌঁছবে।

গবেষকরা বলছেন, সাধারণত নর্দমা, ড্রেন, ডোবার বদ্ধ পচা পানিতে মশার উৎপত্তিস্থল। শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ায় প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। যে কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মশাল ঘনত্ব বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট কোনো একটি কীটনাশক একটানা পাঁচ বছরের বেশি ব্যবহার করলে সে কীটনাশকের বিপক্ষে মশার টিকে থাকার শক্তি তৈরি হয়। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক পরিবর্তনের বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার। সারা বছর নিয়মিতভাবে সেগুলো ছিটানো প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ৮ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত কিউলেক্স মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালানো হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। মশক নিধনে ২০২০-২১ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাজেট রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।