• রোববার   ২০ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪২৮

  • || ১০ জ্বিলকদ ১৪৪২

মানবিক কারণে ছাড় পাচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীরা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২১  

জেলা ভিত্তিক যান চলাচল স্বাভাবিক থাকায় নানান প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে ঘাটমুখী মানুষের স্রোত রয়েছে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে। এসব যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে বিজিবি ও পুলিশি চেকপোস্ট। তবে মানবিক কারণে বেশির ভাগ যাত্রীরাই রেহাই পাচ্ছে এসব চেকপোস্ট থেকে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের প্রতিটি ঘাট হয়ে গড়ে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন হয়। তবে ঈদসহ যেকোন উৎসবে এই যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় কয়েকগুন। কিন্তু, করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধে দেশব্যাপী চলছে লকডাউন। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যানবাহন। তবে থেমে নেই ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা।


জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বারবারিয়া ব্রিজ এবং সিংগাইর উপজেলার ধল্ল্যা ব্রিজ এলাকায় পুলিশ এবং বিজিবির চেকপোস্ট রয়েছে। উপযুক্ত কারণ ছাড়া সাধারণ যাত্রীরা এসব চেকপোস্ট পারি দিয়ে ঘাট অভিমুখে যাত্রা করার সুযোগ নেই। তবে একদিকে যেমন প্রখর রৌদ অন্যদিকে রোজা। এই বিষয়টিতে মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে চেকপোস্ট পার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বেশিরভাগ যাত্রীরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চেক পোষ্ট থেকে রেহাই পাচ্ছে দ্রুত।

রোববার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বারবারিয়া চেকপোস্ট এলাকায় সরেজমিনে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশের চেকপোস্ট দেখা যায়। এর একটু পরেই রয়েছে বিজিবির চেকপোস্ট। কিন্তু এতোসব নিরাপত্তার পরও কিছুতেই থামছে না ঘাটমুখী মানুষের স্রোত। নানা অজুহাতে ঘাটে যাচ্ছে এসব যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষার পর নৌরুট পারাপারের সুযোগ পাচ্ছে তারা। লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেও ফেরিতে নদী পারাপার হচ্ছে তারা।

মহাসড়কের বারবারিয়া এলাকায় আলাপ হলে ঘরমুখো যাত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, প্রতি বছরই কষ্ট করে ঢাকা থেকে বাড়ি যেতে হয়। এটা নতুন কিছু নয়। তাই কষ্ট হবে জেনেও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি।

আবিদুর রহমান নামের আরেক যাত্রী বলেন, এক ম্যাচে সাত জন লোক ছিলাম। সবাই বাড়ি যাচ্ছে। এছাড়া গ্রামে বাবা-মা রয়েছে। তাই একটু কষ্ট করে হলেও সকলের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি।

বারবারিয়া এলাকায় আলাপ হলে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, রোববার ( ৯ মে) সকাল থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাদের টিম। ঢাকা জেলার যাত্রীবাহী বাস সরাসরি মানিকগঞ্জ প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। বারবারিয়া ব্রীজের ধামরাই অংশে ঘাটমুখী যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর পাঁয়ে হেঁটে কিছুদূর যাওয়ার পর নয়াডিঙ্গি বাসষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফের ঘাটে বা মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে যাত্রীরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্পোরেশন আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, জরুরী সেবার জন্য ফেরিঘাট এলাকায় ২-৩টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে। কিছুক্ষন পরপর ওই ফেরিগুলো নৌরুটে চলাচল করছে। সেসব ফেরিতে করে কিছু কিছু যাত্রী পারাপার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও মানবিক কারণে এসব যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, জেলার দুই প্রবেশদ্বারে দুই প্লাটুন বিজিবি ও ম্যাজিষ্ট্রেট রয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাট এলাকাতেও এক প্লাটুন বিজিবি ও ম্যাজিষ্টেট রয়েছে। ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।