• শুক্রবার   ০৭ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৬ রমজান ১৪৪২

রমজানে রোজার বিধান

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২১  

প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) রোজা রাখতেন। এছাড়াও শাবান মাসের বেশিরভাগ দিন তিনি রোজা রেখেছেন। এতে করে মুমিন বান্দারাও এভাবে সারাবছর রোজা পালন করেন। তবে এই রোজা ফরজ নয়।

শুধু রমজান মাসের রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ। আমরা যেন আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পারি সে জন্য রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপরও রোজা ফরজ ছিল।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়টি হলো রোজা। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়।

হজরত আদম (আ.) প্রত্যেক মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা পালন করতেন। যা হজরত নুহ (আ.) এর সময় পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।

এভাবে হজরত দাউদ (আ.) সহ অনেক নবী-রাসূলই রোজার বিধান পালন করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ইসলাম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও উপোস করে থাকেন।

সর্বশেষ আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য পুরো রমজান মাস জুড়ে রোজা পালনকে বিধান করে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরুপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)।

পবিত্র কোরআনের পরবর্তী আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা অসুস্থ ও মুসাফিরদেরকে রোজার এ বিধান থেকে অব্যহতি দেন। তিনি ইরশাদ করেন, 

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সঙ্গে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।’
(সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)।

তিনি আরো বলেন, 

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।’ (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)’

হাদিসে পাকে রমজানের রোজার আবশ্যকতা তুলে প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা করেন-

হজরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, (একবার) এলোমেলো চুলসহ এক গ্রাম্য আরব প্রিয় নবী (সা.) এর কাছে আসলেন। অতঃপর বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, আল্লাহ তায়ালা আমার ওপর কত রাকাআত নামাজ ফরজ করেছেন?

তিনি বললেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তবে তা স্বতন্ত্র।’

তারপর সে ব্যক্তি বলল, আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কত সিয়াম ফরজ করেছেন?

রাসূলুল্লাহ (সা.)  বললেন, ‘রমজান মাসের সাওম বা রোজা; তবে তুমি যদি কিছু নফল রোজা আদায় কর তবে তা স্বতন্ত্র কথা।’

তারপর তিনি বললেন, বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কী পরিমাণ জাকাত ফরজ করেছেন?

রাবি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, ‘ওই সত্ত্বার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবি করে সম্মানিত করেছেন।

(লোকটি বলল) আল্লাহ আমার ওপর যা ফরজ করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াবো না এবং কমাবোও না।

রাসূলুল্লাহ (সা.)  বললেন, ‘সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করবে কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করবে।’ (বুখারি)।

পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজান মাসব্যাপী রোজা পালন করা আল্লাহর বিধান ও ফরজ তথা আবশ্যক ইবাদত। যারা এ ইবাদত যথাযথ পালন করবে, তাদের জন্য পরকালের সফলতা তথা জান্নাত লাভ সুনিশ্চিত।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সফলতা ও জান্নাত লাভে রমজানের রোজার যথাযথ হক আদায় করে তা পালন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।