• শুক্রবার   ০৭ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৬ রমজান ১৪৪২

রোজা থেকে ৪ তলায় না ওঠায় ফুডপান্ডার রাইডারকে মারধর

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২১  

রোজা থেকে খাবার নিয়ে চার তলায় না উঠায় সাভারে আব্দুল লতিফ নামের ফুডপান্ডার এক রাইডারকে মারধর করেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি। ঘটনাটির ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) এ ঘটনার কথা সাংবাদিকদের জানান ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ।

এরআগে, বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে সাভার পৌরসভার বনপুকুরের মালঞ্চ আবাসিক এলাকায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় পাশের ভবনে থাকা এক ব্যক্তি ভিডিওটি করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দিলে তা ধীরে ধীরে ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মারধর করা সেই ব্যক্তির নাম সাইদুর রহমান সুজন। তার বনপুকুরের মালঞ্চ আবাসিক এলাকায় একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ৩ মিনিট ৮ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি সাইকেল নিয়ে ফুডপান্ডার রাইডার লতিফ দাঁড়িয়ে আছে। সুজন নামের সেই ব্যক্তি গালিগালাজ করছে। একপর্যায়ে মারধর শুরু করে। প্রথমে কয়েকটি থাপ্পড় মারা হয়। সেসময় একজন নারী এসে লতিফকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরেক্ষণে কথায় কথায় আবার মারধর শুরু হয়। পরে সুজনের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি লতিফকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী লতিফ বলেন, ‘গতকাল প্রথম রোজার দিন সুজন নামের এক ব্যক্তি খাবারের অর্ডার দেন। আমি খাবার নিয়ে গিয়েছি। তিনি চারতলায় যেতে বলেছিলেন আমি রোজা ছিলাম তাই যেতে চাইনি। পরে সে এসে নানা গালিগালাজ করে আমাকে মারধর করে। আমার এই বিষয়টি ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

সাইদুর রহমান সুজন বলেন, ‘আমি কাল ৫.১৫ মিনিটের দিকে হালিমের অর্ডার দেই। উনি আমার ভবনের সামনে এসে ফোন করে। আমি তখন বলি ভাই আমি একটু অসুস্থ, আপনি খাবারটা একটু চারতলায় এসে দিয়ে যান। আমার পায়ে একটু অসুবিধা আছে আমাকে একটু দিয়ে গেলে উপকার হবে। পরে সে বলে দেওয়া যাবে না। পরে আমি তাকে বলি কোনোভাবে অর্ডার ক্যান্সেল করে দেওয়া যায় কি না। তখন তিনি আমাকে বাজেভাবে বকা দেন। আমার কথাটা শুনে খুবই খারাপ লেগেছে। পরে আমি নিচে নেমে তাকে সরি বলতে বলি সে বলেনি। এর জন্য রাগ হয় আমার। এই হলো ঘটনা। আমি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্তি রয়েছি। তবে এমপি সাহেবের পিএস না।’

এ বিষয়ে ফুডপান্ডার সাভার জোনের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের হেড অফিসকে জানানো হয়েছে। আমরা এখনো সাভার জোন থেকে কেনো আইনি কার্যক্রমে যাইনি। হেড অফিস যা করবে তাই হবে।’

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছে জানতে পারলাম। আমাদের কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’