• শুক্রবার   ০৭ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ২৪ ১৪২৮

  • || ২৬ রমজান ১৪৪২

লিচুর বাগানে মৌচাষিদের ব্যস্ততা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২১  

কাঁঠালের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গাজীপুর মৌসুমী ফল লিচুর দিকেই দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। রসালো এই ফলে আয়ের সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে লিচু চাষ। দেশের বিভিন্ন স্থানের মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরে বেশ কিছু জাতের লিচুর আবাদ হয়। স্বাদের দিক দিয়েও তা অতুলনীয়।

বসন্তের অর্ধেক শেষ হলেও মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগানের লিচু গাছগুলো। চারদিকে মুকুলে থাকা মধুর ঘ্রাণে স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কৃষকের পরিচর্যার সাথে লিচুর বাগানে মৌয়ালদের ব্যস্ততাও বেড়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী, কেওয়া, বারতোপা ও রাজাবাড়ী এলাকায় ৭২৭ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান গড়ে উঠেছে। চলতি বছর লিচুর সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩৮৯০ মেট্রিক টন। এছাড়াও লিচুর মুকুল থেকে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩.০৭ টন। লিচুর মুকুলের এই ভরা মৌসুমে প্রাকৃতিকভাবে মধু উৎপাদনের দিকেই নজর সবার বেশি।

শ্রীপুর উপজেলা মৌচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শ্রীপুরে প্রায় অর্ধশত চাষি বিভিন্ন মৌসুমী ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে। মধু সংগ্রহের এ পক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত রয়েছে প্রায় দুইশতাধিক চাষি। প্রতিবছর তাদের মূল লক্ষ্য থাকে লিচুর এই মৌসুম। কেননা লিচু ফুলের এই মধু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। গত বছর করোনার কবলে পড়ে মধু সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

মৌচাষি আজিজুল হক বলেন, তারা অনেকটা যাযাবরের মতো জীবন যাপন করেন। মৌসুম অনুযায়ী মৌমাছির ফ্রেমসহ চাকগুলো বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে হয়। তবে সকল কিছুর থেকে লিচুর ফুল থেকে মধু উৎপাদিত হয় বেশি। লিচু গাছে মুকুল আসার পর বাগান মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে বাগানে তা স্থাপন করা হয়। পরে একমাস ধরে দু-চারদিন পর পর মধু সংগ্রহ করা হয়। সরাসরি উৎপাদিত এই মধু বাগান থেকেই পাইকারদের হাতে তুলে দেয়া হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০টাকা দরে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরো ১৫ দিন মধু উৎপাদন করা যাবে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসান বলেন, শ্রীপুরে লিচু চাষে অধিক আয় হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ চাষ। লিচু উৎপাদনের পাশাপাশি লিচুর মুকুল থেকে মধু উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে অন্যদিকে কৃষি অর্থনীতিও স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। সাথে লিচুর বাগানে মৌমাছির আনাগোনা তৈরি হওয়ায় পরাগায়নের সুযোগের মাধ্যমে অধিক ফলনও নিশ্চিত হচ্ছে।