• মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৫ ১৪২৭

  • || ২৫ রজব ১৪৪২

`শেখের বেটি আমাগো মাথা গুজার ঠাঁই কইর‌্যা দিল`

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

অনেক বছর আগে এক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বামী সামসুল আলম। পরে পাঁচ সন্তান নিয়ে অভাব-অনাটনে কষ্টে দুঃখে কোনো মতো জীবন পার করছিলেন ষাটোর্ধ মানিকজান বেগম। পরে পাঁচ সন্তানের মধ্যে চার জন মারা যায়। এরপর অভাব-অনটন আর দুঃখের মাঝে হানা দেয় সর্বনাশী যমুনার ভাঙন। বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরে আশ্রয় নেন পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ফলসাটিয়া এলাকার ভাইয়ের বাড়ি। একটি ঝুপড়ি ঘরে এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন মানিকজান বেগম।

স্বামীহারা অসহায় মানিকজান ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়ি কাজ করে বেঁচে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। সেখানে নিজের একটি বাড়ি ও ঘর করা তার কাছে স্বপনের মতো ছিল। এর মাঝেই স্বপ্ন ধরা দেয় তাকে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আবাসন প্রকল্পে শিবালয় উপজেলা প্রশাসন তার নাম তালিকাভুক্ত করে নেয়।

মানিকজানের মতো অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ২০টি পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই মিলছে মানিকগঞ্জে শিবালয় উপজেলার উথুলী ইউনিয়নের নদীশুকা এলাকায় খাস জমির উপর নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এখানে অসহায় পরিবার গুলো দুই শতাংশ জমির উপরে আধুনিক সুয়োগ-সুবিধা সমন্বয়ে একটি পাকা ঘর। থাকছে দুইটি রুম, একটি রান্নার রুম, টয়লেট গভীর নলকুপসহ বিদ্যুতের ব্যবস্থা।

সুবিধাভোধী মানিকজান বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, হেই ছোট বেলা থেকে কষ্ট কইরা আসতেছি। জীবনের সব হারায়ছি। আমি গরিব মানুষ, আমার নিজের এটা বাড়ি ওইবো তা কোনোদিন ভাবিইনি। শেখের বেটি হাসিনা আমাগো মাথা গুজার ঠাঁই কইর‌্যা দিল। আল্লাহ কাছে দোয়া করি তারে যে আরো দিন বাচায়া রাহে।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম রুহুল আমীন রিমন জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আবাসন প্রকল্পে শিবালয়ে ২১টি পরিবার এ ঘর পাচ্ছে। ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের মাঝে জমির নামজারিসহ হস্তান্তর করা হয়ে গেছে। আর ঘরের কাছ শেষ পর্যায়ে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর ভিডি কনফান্সের মাধ্যেমে সারা দেশের ন্যায় আনুষ্ঠানিক এ আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে। উপজেলায় ক শ্রেণিভুক্ত ৩৪১ জনের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ২১ জনকে প্রাথমিকভাবে এ ঘর প্রদান করা হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সুদে রায় বলেন, প্রতিটি ঘর নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লক্ষ একাত্তর হাজার টাকা। কাঠামোর গুণগত মান ঠিক রেখে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।