• বৃহস্পতিবার   ২৮ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১৩ ১৪২৮

  • || ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আশুলিয়ায় প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে হত্যা ক্যামিলি পিন্টুর জবানবন্দি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২১  

আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ডিস ব্যবসায়ী ইলিম সরকারকে (৪২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার স্ত্রী ক্যামিলি ও তার প্রেমিক রবিউল করিম পিন্টু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের উপ-পরিদর্শক (এস আই) সালেহ ইমরান।

 
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দাতারা হলেন, নাটোর জেলার গুরুদাশপুর থানার তেলটুপি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. রবিউল করিম পিন্টু (৩৫)। তিনি জামগড়া পল্লিবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের লাইনম্যান ছিলেন ও আশুলিয়ার জামগড়ার বেরন এলাকায় বসবাস করতেন। এছাড়া ইলিম সরকারের স্ত্রী ও কালু মিয়ার মেয়ে ক্যামিলি সুলতানা (৩২) ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছেন।

 

জানা যায়, গত ২৮ মার্চ ফিল্মি স্টাইলে স্বামী ইলিম সরকারকে হত্যা করেন স্ত্রী ক্যামিলি ও প্রেমিক পিন্টুসহ তার সহযোগী। ইলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগানোর কাজ করতে এসে ক্যামিলির সাথে ২০১৯ সালে পরিচয় হয় পিন্টুর। এরপর তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ইলিম সরকার জানতে পারলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা ইলিম সরকার তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জানাবেন বলে হুমকি দেন। পরে ক্যামিলি ও পিন্টু মিলে ইলিম সরকারকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার ভাড়া বাসায় দু’জন ভাড়াটে খুনিকে কৌশলে বাসা ভাড়া নিয়ে দেন।

 

তারা ব্যর্থ হলে গত ২৮ মার্চ নিজেরাই কুপিয়ে হত্যা করেন ইলিমকে। এসময় নিহতের স্ত্রী ক্যামিলি সুলতানা দরজায় পাহারা দেন। হত্যার আগের রাতে স্বামীকে দইয়ের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান ক্যামিলি। ঘটনার ৫ মাস পর ইলিম সরকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই। একই সঙ্গে ক্যামিলি ও পিন্টুকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

 

ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালেহ ইমরান জানান,  বিকেল ৫টারদিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক ফাইরুজ তাসনিমের আদালতে ক্যামিলি সুলতানা ও রাজীব হাসানের আদালতে রবিউল করিম পিন্টুকে তোলা হয়। এসময় তারা দুইজনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, ২৮ মার্চ ঘরে ঢুকে ইলিম সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এদিন সকালে তার রক্তাক্ত মরদেহ দেখে হত্যাকারী ও তার স্ত্রী চিৎকার করে কান্নাকাটি করেন। পরে হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি।

 

নিহত ইলিম সরকার কাঠগড়া এলাকার হাজী মো. ফজল হক সরকারের ছেলে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে ডিসের ব্যবসা করছিলেন। তার ১০ বছর বয়সের ছেলে কাইফ ও ৭ বছরের কাশফিয়া নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।