• বৃহস্পতিবার   ২৮ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১৩ ১৪২৮

  • || ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাটুরিয়ায় ঋণ গ্রহীতাকে পেটালেন সমিতির কর্মকর্তারা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

সাটুরিয়ায় আলোর দিশারী নামে সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বকেয়া কিস্তির দায়ে ঋণ গ্রহীতাকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নাল হক নামে নিরীহ ঋণ গ্রহীতাকে অফিসে ডেকে এনে কক্ষের দরজা বন্ধ করে পিটিয়ে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী। 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার  সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকালে উপজেলার রৌহা এলাকায় আলোর দিশারী নামে সমিতির অফিসে এ ঘটনা ঘটে। 
 
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, হতদরিদ্র পরিবারের উন্নয়ন করতে উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে আলোর দিশারী সঞ্চয় ও ঋণ দান সমিতি। এ সমিতি থেকে রৌহা গ্রামের মো. হোসেন আলীর পুত্র ময়নাল হকের স্ত্রী মমতাজ বেগম কিস্তি দেওয়ার শর্তে ৬০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। 

দীর্ঘদিন ওই ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকায় সোমবার বিকালে ওই এনজিওর ব্যবস্থাপক মো. আ. সামাদ ঋণী মমতাজের স্বামী ময়নাল হককে অফিসে ডেকে আনেন। এরপর ওই অফিসের ব্যবস্থাপক, অপর কর্মকর্তা আবুল কালাম ও আসাদ কিস্তির টাকা বকেয়ার কারণে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার পর কর্মকর্তারা মিলে তাকে গালে থাপ্পড়সহ কিল-ঘুষি এমনকি লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন ময়নাল হক। 
 
ময়নাল হক বলেন, বন্যা আর করোনার প্রভাবে ব্যবসা হারিয়ে বেকার হয়েছি। বউ-বাচ্চাদের নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটছে আমার। এজন্য কিস্তি বাকি থাকায় বকা খেলাম ও অপমান হলাম। বিচার না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া পথ দেখি না।  
        
এ ঘটনায় সরেজমিন গেলে মঙ্গলবার ওই আলোর দিশারী অফিসের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখো গেছে। পেটানোর ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের তোপের মুখে কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেটানোর কথা অস্বীকার করে আলোর দিশারী এনজিওর ব্যবস্থাপক মো. আ. সামাদ বলেন, দীর্ঘদিন ঋণ অনাদায়ের কারণে অফিসে ডেকে এনে তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্তে ফের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আলম বলেন, কোনো সমিতির কর্মকর্তা ঋণীকে পেটানোর আইনগত অধিকার নেই। বিষয়টি কেউ আমাকে অবহিত করেননি। সমিতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশরাফুল আলম জানান, কিস্তির দায়ে ঋণীর বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নেওয়া অন্যায়। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।