• রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৮

  • || ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

মেহজাবিনের বাঁচার আকুতি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২১  

গার্মেন্টস কর্মী খন্দকার মারুফুর রহমান। মানিকগঞ্জ থেকে এসে জীবিকার তাগিদে ঘর বেঁধেছেন সাভারে। এক মেয়ে এক ছেলে নিয়ে সুখেই চলছিল সংসার। কিন্তু বড় মেয়ে মেহজাবিন খন্দকার মাহিদা হঠাৎ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। নিমিষেই সুখের আকাশে কাল মেঘের ছাউনি। গার্মেন্টসের বেতন, জমানো অর্থসহ যা ছিল সবই ফুড়িয়ে গেছে মাত্র দেড় মাসের চিকিৎসায়। এখন অবশিষ্ট হৃদয়বানের সহানুভূতি।

মেহজাবিন খন্দকার মাহিদা সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। তার বাবা খন্দকার মারুফুর রহমান সাভারের পোশাক কারখানা আল-মুসলিমে কাজ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলা সদরের কাটি গ্রামে। বর্তমানে মেহজাবিন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে।

মেহজাবিনের বাবা মারুফুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সাভারের আড়াপাড়ার ইলিয়াস মজুমদারের বাড়িতে ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করছি। সংসার ভালই চলছিল, মেয়েকে স্থানীয় একটি ভাল স্কুলে ভর্তি করেছিলাম। ইচ্ছা ছিল গার্মেন্টসে কাজ করেও সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ বানাবো। কিন্তু মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেই মেয়েটা বোন-ম্যারো রোগে আক্রান্ত হয়। ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা শুরু করি গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে। তখনই মেহজাবিনের এই রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের চিকিৎসা করেই আমার যা কিছু ছিল সবই শেষ করেছি। 

গত ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার। মেয়েটা যন্ত্রণায় ছটফট করে আর বলে বাবা আমি বাঁচবো তো। কিন্তু বাবা হয়ে ডুকরে কাঁদা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তবুও মিথ্যা আশ্বাস দেই। মা তুমি বেঁচে থাকবে, আবার স্কুলে যাবে। ডাক্তার বলেছে ব্লাড ক্যানসারের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাগবে। আর বোন-ম্যারো রোগের চিকিৎসা নিতে যেতে হবে ভারতে। কিন্তু সেখানেও টাকা লাগবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার। এতো টাকা আমি কি করে সংগ্রহ করবো? হয়তো শেষ পর্যন্ত মেয়েটার সুচিকিৎসা করাতে পারবো না। এমনি করেই ধুকে ধুকে মরবে মেয়েটা।

মেহজাবিন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের তৃতীয় তলার ডি-ব্লকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেহজাবিনকে বাঁচাতে বিভিন্ন হৃদয়বানরা হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই মানবিক সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন মেহজাবিনের পরিবার। সংকোচ ভুলে মেয়ে বাঁচাতে এই সাহায্যের আবেদন করেন তিনি।

তিনি বলেন, রোগব্যাধি কখন কাকে আক্রমণ করে তা নিশ্চিত নয়। আমার ছোট্ট মেয়েটা যত বড় ব্যাধিতে কষ্ট পাচ্ছেন আল্লাহ্ যেন অন্য কাউকে এই কষ্ট না দেয়। আমি পোশাক কারখানায় কাজ করি আর আমার মেয়ে আজ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। যখন ভাবি সব টাকা খরচ করে এখন আমি নিঃস্ব, এর ওপর নতুন করে ধরা পড়েছে ব্লাড ক্যান্সার। যখন ভাবি সুচিকিৎসাও করাতে পারবো না তখন ব্যর্থ বাবা মনে হয়। এখন আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা ছাড়া আর কিছু করার ক্ষমতা নেই আমার। শুধু তাকিয়ে আছি হৃদয়বানদের মুখপানে। ব্যর্থ বাবাটার একমাত্র মেয়েটার চিকিৎসার জন্য মানবিক সহযোগিতা পেলে একটু হলেও শান্তি পেতাম। গার্মেন্টসের কোন ফান্ড, সরকার কিংবা কোন সংস্থা সহযোগিতা করলেই আমার মেয়েটার কষ্ট লাঘব হতো। সহযোগিতা পাঠানো যাবে বিকাশে।

মেহজাবিনের বাবা খন্দকার মারুফুর রহমানের বিকাশ নাম্বার ০১৭০৩২২২৪২৫।