• রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১০ ১৪২৮

  • || ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নাব্য সংকটে বাঘাবাড়ি-নগরবাড়ি বন্দরে ভিড়তে পারছে না জাহাজ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২২  

পদ্মা-যমুনা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে সরাসরি বাঘাবাড়ি ও নগরবাড়ি বন্দরে ভিড়তে পারছে না তেল এবং সারবোঝাই কার্গো জাহাজ। ফলে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা শতাধিক জাহাজ মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নোঙর করে আছে। সময় মতো এসব পণ্য বন্দরে না পৌঁছায় উত্তরাঞ্চলে সার ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনেক জাহাজ থেকে ট্রলারে খালাস করে বন্দরে পাঠানো হচ্ছে পণ্য সামগ্রী। এতে বেড়েছে পরিবহন খরচ। নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জাহাজের শ্রমিকরা।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার অন্বয়পুর ও দাসকান্দি এলাকায় আটকা আছে প্রায় অর্ধশতাধিক কার্গো জাহাজ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জাহাজগুলো যমুনা নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হবে এটি কোন নৌ-বন্দর। বেশ কয়েকটি জাহাজে দেখা গেলো শ্রমিকরা সার বস্তাবন্দি করছে। এরপর সেই সার ছোট ট্রলারে করে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও পাবনার নগরবাড়ি বন্দরে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচলের জন্য নদীতে ১০ থেকে ১২ ফুট পানির গভীরতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আরিচা থেকে পাবনার বাঘাবাড়ি বন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। মোল্লার চর, পেঁচাকোলা ও মোহনগঞ্জ অংশে নাব্যতা সংকট সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় পানির গভীরতা আছে মাত্র সাত থেকে আট ফুট। তবে নৌ-পথ সচল রাখতে এরইমধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।

জাহাজ মাস্টার ও শ্রমিকরা জানান, নৌ চ্যানেলে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী জাহাজগুলো মাঝ পথে আটকে আছে। একেকটি জাহাজ ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত আটকে থাকতে হচ্ছে। এরপর ট্রলারে পণ্য খালাস করে (মালামাল কমিয়ে) গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় তাদের। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে সেই কাজও ঠিকমতো হয় না। ফলে ফাঁকা জায়গায় দিনের পর দিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

নৌ-পথে পণ্য আনা নেওয়ার কাজে নিয়োজিত এম আর পরিবহনের বাঘাবাড়ি অঞ্চলের সার্ভেয়ার লুৎফর রহমান জানান, পাটুরিয়ার উজান থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত নাব্য সংকটের কারণে জাহাজগুলো আরিচার ভাটিতে আটকে আছে। সেখান থেকে বাড়তি শ্রমিক ও ছোট ট্রলারে করে পণ্য খালাস করার পর তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে সার ও জ্বালানি তেল সময় মতো বন্দরে না পৌঁছায় বাজারে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নৌ-যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এরই মধ্যে ড্রেজিং কাযর্ক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে নৌ-চ্যানেল ১০ থেকে ১২ ফুট পানি আছে।

তাহলে কেন কার্গো জাহাজগুলো বন্দরে সরাসরি ভিড়তে পারছে না এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, এ বিষয়ে নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক এস এম সানোয়ার হোসেন বলেন, ড্রেজিং বিভাগ নৌ চ্যানেলে ১০ থেকে ১২ ফুট পানি থাকার কথা বললেও, আমার লোকজন পরিমাপ করে তার কম পেয়েছে। তবে দু-চার দিনের মধ্যে ড্রেজিং বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে নৌপথের সঠিক গভীরতা পরিমাপ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী শুস্ক মৌসুমে আরিচা-বাঘাবাড়ি নৌ-রুটে আট ফুট ড্রাফটের নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলো অতিরিক্ত পণ্যবহন করার কারণেই সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারছে না।