• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

নাগরপুরে সেতু আছে সড়ক নাই

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২২  

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধুবড়িয়া ইউনিয়নে কান্দা পাচুরিয়া এলাকায় সেতু তৈরী হলেও তৈরী হয়নি সেতুর এপ্রোচ সড়ক। সেতু নির্মাণের সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে আশেপাশের পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজারমানুষ। সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে অর্থহীন হয়ে পরেছে। ভোগান্তির বর্ষাকাল ও সামন্য বৃষ্টি হলেই সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। নবনির্মিত এ সেতুর কারনে প্রায় দেড় বছর ধরে নাজেহাল এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণ হলেও সড়ক না থাকায় আরো বিপাকে পড়েছে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও গ্রামীণ যানবাহন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধুবড়িয়া ইউনিয়নের বিষমপুর, বলারামপুর ও দপ্তিয়র ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম সড়ক ব্যবস্থা এটি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নাগরপুর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার মান উন্নয়নের চেষ্টা চললেও এই গ্রামগুলো ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত। ফলে উন্নয়ন বঞ্চিত গ্রামগুলোতে বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবীতে কান্দা পাচুরিয়া-বিষমপুর-চকগদাধর সড়কে এই সেতু নিমির্ত হয়। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে কান্দা পাচুরিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান শাখাওয়াতের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলেও তৈরি হয়নি সেতুতে উঠার সংযোগ এ্যাপ্রোচ সড়ক। দেড় বছরেও সেতুটির সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজমান । এছাড়াও সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় পায়ে হাঁটার পথটি বর্ষার ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকায় সমস্যাটি এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮-২০১৯ সালে ১,৫৫,৬৯,৭৪৪.৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কান্দা পাচুরিয়া থেকে ধুবড়িয়া সদরে সরাসরি যাতায়াতে ১৫ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ পান সুমন কুমার বণিক ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১ বছর পর ২০২১ সালে ওই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য ২৯৫০ মিটার চেইনেজে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাটের কাজ শেষ করেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা সিএনজি চালক আনোয়ার বলেন, সেতু থাকতেও আমাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। এই সেতু নির্মাণের আগে নৌকায় যেভাবে পাড় হয়েছি এখনও সেতুতে সড়ক না থাকায় নৌকাই পারাপার হতে হয়। সেতু যদি ব্যবহারই না করা যায় তবে সেতু থেকে লাভ কি!

ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, প্রায় ১ বছর যাবৎ সেতুটি এভাবেই পড়ে আছে। ঠিকাদারকে বার বার বলা হলেও এখনো এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করেনি।

“সুমন কুমার বণিক ট্রেডাস” ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আলী আজম তরিক বলেন, দ্রুত চেষ্টা করছি এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের। অল্প সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ওয়ার্ক অর্ডার করার পর দ্রুত সময়ে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু বন্যার ও করোনা মহামারীর কারণে এপ্রোচ সড়ক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী কাজের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শেষ করে জনগণের চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করবে।