• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

নতুন ঘরে ওঠা হলো না ফায়ার ফাইটার রানার!

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২২  

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার রানা মিয়া। ছুটিতে বাড়ি গিয়ে নতুন ঘরে ওঠার কথা ছিল তার।নিহত রানা মিয়ার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নবগ্রাম এলাকায়। পান দোকানদার পান্নু মিয়ার বড় সন্তান রানা মিয়া দেড় বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির পরবর্তী ট্রেনিং শেষে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর সীতাকুণ্ডতে প্রথম যোগদান আর সেখানেই দায়িত্ব পালনকালে জীবনপ্রদীপ নিভে গেল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রানা মিয়ার মৃত্যুর খবর প্রচারিত হলেও বাবা-মা জানেন না এ খবর। রানার বোনজামাই বিজিবির সদস্য মো. রাসেল শেখ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার লাশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাড়ি আনার প্রস্তুতি চলছে।

রানার প্রতিবেশী আওয়াল খান জানান, বাবা-মাসহ পরিবারের সঙ্গে সাত দিনের ছুটি কাটিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুন) তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শুক্রবার সকালে তিনি সেখানে পৌঁছান।

নিহত রানার মামা (খালাতো) সুজন মিয়া তার ভাগিনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার শেষ দেখা তার সঙ্গে। পরিবারের দারিদ্রতা ঘোচাতে অনেক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি নেন রানা। পিতা ঢাকায় পানের দোকান করত। এখনো নিজের ভিটায় ঘর তুলতে পারেনি রানা। মামার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত জমির ওপর নতুন ঘর তোলার যাবতীয় সরঞ্জাম  আনা হলেও কাজ শুরু করতে পারেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে শেষমেশ নিজেই মৃত্যুর মিছিলে শামিল হলো।

সুজন মিয়া আরও জানান, মামার বাড়ি থেকে শেষ রাতযাপন করে কর্মস্থলে গিয়েছে। যাওয়ার আগে বাবা পান্নু মিয়াকে বলে গিয়েছিল আবার ছুটিতে এসে নিজেদের নতুন ঘরে উঠবে। কিন্তু সে স্বপ্ন ধারণ করে না ফেরার দেশে চলে গেল রানা।

তিনি আরও জানালেন, নিহত রানা পরিবারে বড় সন্তান হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল অনেক কিন্তু দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার মুহূর্তে এভাবে প্রদীপ নিভে যাবে কেউ ভাবতেই পারেনি। রানার ছোট ভাই সাজ্জাদ মিয়া স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছে। 

রানার স্বজন সুজন মিয়া আরও জানান, বাবা পান্নু মিয়া ঢাকায় পান দোকান করতেন বেশ কিছুদিন আগে বাড়ি এসেছেন। এখন পরিবারটি চলত রানার বেতনের টাকা দিয়ে। রানাকে হারানোর শোকে মূর্ছা গেছে পুরো পরিবারসহ তাদের স্বজন ও গ্রামবাসী।

শিবালয় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনির হোসেন জানান, রানার মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি দেখে মনে হচ্ছে তিনি আর বেঁচে নেই। তবে ঘটনাস্থলে গেছেন রানার মামা ইউসুফ আলী। তিনিও মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিনও একই কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ফায়ার ফাইটার রানা মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছেন। তিনি জানান, রানার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।