• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব-দূরদর্শিতার কারণেই পদ্মা সেতু হয়েছে’

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২২  

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেছেন, সারাদেশে যে যোগাযোগ বিস্তৃত হলো সেটা আমরা জানি। অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। অনেক শিল্প সৃষ্টি হবে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। মোংলা বন্দর, বেনাপোল বন্দর রয়েছে। সেগুলো আগের তুলনায় বেশি ব্যবহার হবে। ফলে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে। আমাদের সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

শনিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ: বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ তথা উন্নয়নশীল দেশ সমূহের এক যুগান্তকারী বিজয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক উপ-কমিটি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ড. কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করা হয়েছে, এটা আমাদের মর্যাদার বিষয়। কারণ পদ্মা সেতুর মতো এত বড় প্রকল্প আমাদের নিজেদের অর্থায়নে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করতে পেরেছি। তার আগেও ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ১০০০-১১০০ মার্কিন ডলার। এখন সেটা ২৮০০ মার্কিন ডলার। আরও অনেক বেড়েছে। সুতরাং এই মর্যাদা আমাদের সবার। এজন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে। কারণ তার নেতৃত্ব না থাকলে এবং তিনি যদি সেভাবে ঘোষণা না দিতেন, তার দূরদর্শিতা না থাকতো, তাহলে আমাদের পদ্মা সেতু হতো না।

বর্তমানে মাওয়া ঘাটে পরিবহন ব্যয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে পদ্মা সেতুতে ট্রাকের জন্য ২৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি। আগে ১৮০০ টাকা তাদের দিতে হতো। ট্রাককে ফেরিতে তুলতে ২০০ টাকা দিতে হতো। দুদিন-তিনদিন আটকা যদি পড়ে যায়, তখন ট্রাকে যে দুজন থাকেন, তাদের খাবার খরচ ২ হাজার বা তার বেশিও হতে পারে। সব মিলিয়ে তাদের হিসাব মতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হতো। ২০০০ টাকায় পার হওয়া খুবই কঠিন। হয়তো কখনো কখনো হতো। তারা এখন খুশি। খুব দ্রুত চলে যেতে পারবে। চারদিন পাঁচদিন সময় নষ্ট হতো। এখন চার পাঁচ দিনে ২-৩টা ট্রিপ দিতে পারবে। সেজন্যই এখন তারা খুশি।

তিনি বলেন, সাহিত্যিকরা পদ্মা নিয়ে অনেক লিখেছেন। তারা কবিত্ব দিয়ে পদ্মাকে দেখেছেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক সত্তা দিয়ে সেটাকে বিবেচনা করেছেন। এই সেতু নির্মাণ করে তার যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন তাতে দেশের অর্থনীতি এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সমৃদ্ধ করার এবং ভবিষ্যতে আমাদের যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক অগ্রগতি হচ্ছে, সেটা আরও সুসংহত, সুদৃঢ় এবং ত্বরান্বিত হবে। তার প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শীতার জন্যই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান, পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।