• বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ২ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে জাবি অধ্যাপক অসুস্থ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২২  

হল অ্যাটেন্ডেন্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বেগম সুফিয়া কামাল হলের ওয়ার্ডেন ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান। সোমবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে দশটায় হলের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল থেকে একটি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বেগম সুফিয়া কামাল হলের সামনে এসে হলে প্রবেশের চেষ্টা করলে হলে কর্মচারীরা হল ফটক বন্ধ করে দেয়। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে সেই অধ্যাপক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ঘটনা চলাকালীন সময়ে ওই শিক্ষক তার অসুস্থতার কথা বারবার বললেও আন্দোলনকারীরা সেদিকে ভ্রক্ষেপ করেনি। পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে বসে পড়লে অন্দোলরত শিক্ষার্থী সামসুজ্জোহান স্থির অসুস্থ শিক্ষককে জাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে জাবি চিকিৎসা কেন্দ্রে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ আরো খারাপের দিকে গেলে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে সামসুজ্জোহান স্থির বলে, ‘আমরা স্যারকে অসুস্থ অবস্থায় জাবি মেডিকেল (চিকিৎসা কেন্দ্রে) নিয়ে গেলে তিনি সেখানে সুস্থ হয়ে যান। পরে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।’

তবে জাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, রোগীকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে প্রেসার কম লক্ষ করি। এছাড়াও তারা শরীর জ্বর ছিলো। পরবর্তী তিনি এখানে বমি করতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা তাকে এমানে মেডিকেল স্থানান্তর করি।

বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট মোতাহার হোসেনের কাছে অসুস্থ অধ্যাপকের খোঁজ জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত তার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। সম্পূর্ণ খবর না পাওয়া পর্যন্ত তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

আন্দোলন রত আরেক শিক্ষার্থী প্রাপ্তি তাপসি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীরা স্যারের সাথে কোনপ্রকার অশোভন আচরণ দেখাইনি। বরং স্যার যখন অসুস্থ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে তখন আমরা তাকে যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমরা স্যারের জন্য পানির ব্যবস্থা করি। এরপর আমরা শিক্ষার্থীরাই ওনাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাই।’

এ সময় হল প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যখন স্যারের জন্য পানি চাচ্ছিলাম হল থেকে এক ফোটা পানি পর্যন্ত সর্বরাহ করেনি।’

প্রসঙ্গত, হল এটেন্ডেন্স প্রথা বাতিল সহ শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে। ৭ দফা দাবির অন্যান্য দাবিগুলো হলো, হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ম-নীতির ক্ষেত্রে লিঙ্গ-ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ কর । হল প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর এবং হল সুপারদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা বন্ধ কর। কথায় কথায় সিট বাতিলের হুমকি দেয়া বন্ধ করা। নিপীড়ন বিরোধী সেলকে কার্যকর কর। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদেরকে হেনস্থার ঘটনার স্বাধীন তদন্ত কর। সব হলের রান্নাঘর, ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ে সংকট সমাধান কর ও খাবারের মান নিশ্চিত কর।