• বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ২ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

শিক্ষকদের জীবন বাঁচানোই এখন দায়

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২২  

‘শিক্ষকদের জীবন বাঁচানোই এখন দায়। দেশের সব আন্দোলনে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা রয়েছে। এজন্য পাকিস্তানিরা একাত্তরে এ দেশের শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের শেষ করে দিতে চেয়েছিলো। অথচ এই শিক্ষকরাই এখন সমাজে অপমানিত, এমনকি হত্যার শিকার হচ্ছে। এখন সময় হয়েছে শিক্ষকদের এক হওয়ার।’

শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারের মৃত্যু ও অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের মানহানির ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (৩ জুলাই) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন বক্তারা।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আইবিএ’র অধ্যাপক মো. মোতাহার হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা অনেক উচ্চ মর্যাদার পেশা। এ পেশায় আমরা জাতি, সমাজ, রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে এসেছি। বর্তমানে যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে, তা কখনই কাম্য নয়। আমরা এখনো কাঠামোগতভাবে শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে পারিনি, আমাদের সম্মানকে সুসংহত করতে পারিনি। বর্তমানে যে ঘটনাগুলো ঘটছে এগুলো আমাদের সবারই অবক্ষয়। আমাদের ঘুরে দাড়াতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে, কণ্ঠকে শাণিত করতে হবে।’

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, ‘একদিকে রাষ্ট্র বড় বড় মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন করছে। অন্যদিকে জাতীর যারা মেরুদণ্ড, তাদের একের পর এক লাঞ্চিত ও হত্যা করা হচ্ছে। একটার পর একটা শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেই চলছে। কিন্তু এগুলোর কোনও সুষ্ঠু তদন্ত বা শাস্তি দেওয়ার মতো উদ্যোগ দেখিনি। নড়াইলে সামান্য ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সেখানে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপমানিত করা হয়েছে। সাভারের আশুলিয়ায় জনসম্মুখে এক শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন দেশে এ ধরনের ঘটনার ধিক্কার জানাই। জাতি হিসেবে আমরা লজ্জায় পড়ে যাই। এসব হত্যাকারী ও লাঞ্ছনাকারী দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

সমাপনী বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫১ বছর পরে আজকে আমাদের এখানে দাঁড়াতে হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার। আজকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অপমানিত ও হত্যা করছে, এর প্রতিবাদ করার ভাষা আমাদের নেই। যাদের আমরা শিক্ষা দিই, তারাই যদি চড়াও হয় তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে? কেন আজকে এই অবস্থা?’

তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ছে। এ ধরনের অবস্থায় শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। অধিকাংশ আক্রমণে সাম্প্রদায়িকতার একটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। সরকারসহ সরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর কারণগুলো উদঘাটন করতে হবে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’