• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তরুণীর অন্তরঙ্গ দৃশ্য ভিডিও করে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২২  

কুমিল্লার মুরাদনগরে সনাতন ধর্মের এক কলেজছাত্রীর (১৭) সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে তা ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছেন সজিব কুমার দাস (১৯) নামে এক প্রতারক।

গত রোববার (১৭ জুলাই) এ নিয়ে ভিকটিম কলেজছাত্রীর বোনের জামাই বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় তিনজনের নামসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।


গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক সজিব কুমার দাস (১৯) মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার বানীজুরি গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র দাসের ছেলে। বাকিরা হলেন- দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (১৭), মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ইস্রাফিল হোসেন অয়ন (১৫)।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নগড়পার গ্রামে ভিকটিম কলেজছাত্রীর বাসার সঙ্গে সজিব কুমার দাস ভাড়া বাসায় থাকতো। পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সজিব কুমার দাসের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর। গত ২৩ জুন দুপুরে কৌশলে ভিকটিম ওই কলেজছাত্রীকে উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের হুমায়ন কবিরের বাড়িতে নিয়ে যায় সজিব কুমার দাস। সেখানে সজিব কুমার দাস ওই কলেজছাত্রীকে বাড়ির ছাদে যাওয়ার সিঁড়িতে নিয়ে গিয়ে কিছু সময় সেখানে অতিবাহিত করে। সে সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সজিব কুমার দাসের বন্ধু রুহুল আমিন ও ইস্রাফিল হোসেন অয়নসহ অজ্ঞাতরা সে অন্তরঙ্গ মূহর্তের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে টাকা দাবি করেন।


এ সময় কলেজছাত্রীকে প্রতারক প্রেমিক সজিব কুমার দাস জানায়, যদি তার বন্ধুদের টাকা না দেওয়া হয় তাহলে এ অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে তারা। সে সময় ভিকটিমের কাছে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা সজিব কুমার দাসের বন্ধুদের হাতে তুলে দিয়ে সে সেখান থেকে বাসায় ফিরে আসে।

পরবর্তীতে সে গত ২৯ জুন নগড়পার বাসা থেকে উত্তর ত্রিশ গ্রামে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় প্রেমিক সজিব কুমার দাসসহ বন্ধুরা রাস্তায় আবার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই কলেজছাত্রী গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন তাদের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত ১৩ জুলাই ফের প্রেমিক সজিব কুমার দাস তার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে ভিকটিমের মায়ের কাছে ফোন দিয়ে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরে এ ঘটনাটি ভিকটিম তার পরিবারের কাছে জানালে গত ১৭ জুলাই বিকেলে পরিবারের লোকজন প্রেমিক সজিব কুমার দাসকে দাবিকৃত টাকা নেওয়ার জন্য নগড়পার চিলআউট নামে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলে। তখন সজিব তার সহযোগী বন্ধু রুহল আমিন ও ইস্রাফিল হোসেন অয়ন টাকা নেওয়ার জন্য আসে। এসময় ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাদের আটক করে মুরাদনগর থানা পুলিশকে খবর দিলে থানার এসআই হামিদুল ইসলাম বিপিএম সঙ্গীয় ফোর্স তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল বারী ইবনে জলিল এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আরটিভি নিউজকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়েরের পর সোমবার দুপুরে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।