• সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

  • || ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাস্টার ও ভিসা কার্ড থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  

মাস্টার ও ভিসা কার্ডধারীদের অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারকচক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। তারা হলেন- মো. সোহেল মীর, মো. নাজমুল হোসেন, পারুল ও মো. তারা মিয়া। শুক্রবার ও শনিবার (১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী, ফরিদপুর ও সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের জোনাল টিম।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, মাস্টার ও ভিসা কার্ডের ১৬ ডিজিটের নম্বর, কার্ডের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, কার্ডের বিপরীত পাশে তিন ডিজিটের সিকিউরিটি পিন নম্বর সংরক্ষণ করতেন তারা। পরে গ্রাহকদের কাছে ওটিপি কোড পাঠাতেন। এরপর কৌশলে ওটিপি কোড সংগ্রহ করে বিকাশ অ্যাপে ঢুকে ‘কার্ড টু বিকাশ অ্যাড মানি’ অপশনের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল চক্রটি

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে ভিসা ও মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো দেশে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট, কেনাকাটা, এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা ও মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন কাজ করা যায়। এ কার্ড ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা আনা যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ হাতিয়ে আসছিল প্রতারকচক্র। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনায় গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল থানায় একাধিক মামলা হয়। গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের মামলাগুলোর ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে রাজধানী, ফরিদপুর ও সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল, নাজমুল, পারুল ও তারা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

মাস্টার ও ভিসা কার্ড থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে ডিসি মশিউর রহমান বলেন, এ চক্রের একজন সদস্য বিভিন্ন কার্ডধারীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে গ্রেফতার নাজমুল ও সোহেলের কাছে পাঠান। সোহেল ও নাজমুল বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তা সেজে ভিসা ও মাস্টার কার্ড ব্যবহারকারীদের নম্বরে ফোন দিয়ে তথ্য হালনাগাদ, কার্ডের পাসওয়ার্ড চার ডিজিটের পরিবর্তে ছয় ডিজিট ও ই-মেইল আপডেট না করার কারণে কার্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে বলে জানান। অনেক কার্ডধারী তাদের অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের ব্যালেন্স থাকায় আতঙ্কিত হয়ে প্রতারকদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে থাকেন।

‘এভাবে সংগৃহীত তথ্য থেকে ১৬ ডিজিটের নম্বর, কার্ডের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, কার্ডের বিপরীত পাশে তিন ডিজিটের সিকিউরিটি পিন নম্বর সংরক্ষণ করে। পরে গ্রাহকদের কাছে ওটিপি কোড প্রেরণ করতো তারা। কৌশলে ওটিপি কোড সংগ্রহ করে বিকাশ অ্যাপে ঢুকে কার্ড টু বিকাশ অ্যাড মানি অপশনের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে।’

গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলেও মাস্টার কার্ড অথবা ভিসা কার্ড ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয় নতুন হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী প্রাথমিকভাবে সন্দেহ প্রকাশ করেন না। অনেকেই কার্ড স্থায়ীভাবে সাসপেন্ড হয়ে যাওয়া ও কার্ডে জমা অর্থের ক্ষতির আশঙ্কায় প্রতারকদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই তথ্য দিয়ে দেন।

মাস্টার কার্ড বা ভিসা কার্ড প্রতারণায় একাধিক ধাপে কয়েকটি তথ্যের প্রয়োজন হয়। যেমন- কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, নিরাপত্তা পিন নম্বর ও ওটিপি কোড ইত্যাদি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নিজের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কোড কখনই কোনো ব্যক্তির সঙ্গে এমনকি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও শেয়ার না করার জন্য কার্ড ব্যবহারকারীদের অনুরোধ জানান গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা।