• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পাঁচ জঙ্গির ফাঁসি নিয়ে হাইকোর্টের রায় কাল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

সাত বছর আগে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যার দায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ জঙ্গির ফাঁসির রায় বহাল থাকবে কি না আগামীকাল বুধবার তা জানা যাবে। এদিন এই মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) ও বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট।

সোমবার চূড়ান্ত শুনানির পর বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন রাখেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ মান্নান, জাকির হোসেন মাসুদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ বলেন, ‘যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচারিক আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। যে কারণে বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখার আরজি জানিয়েছি। ’

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে দুই একর জমি ইজারা নিয়ে কুনিও ঘাসের আবাদ করেছিলেন। শহর মুন্নাফ নামের এক ব্যক্তির রিকশায় চড়ে প্রতিদিন সকালে সেই খামার দেখভাল করতে যেতেন তিনি। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সেখানে যাওয়ার পথেই তিনি খুন হন। ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক সিজারে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় একই কায়দায় রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যার ওই ঘটনা সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন তোলে।

ওই দিনই কাউনিয়া থানার তৎকালীন ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দায় স্বীকার করলেও সরকার তা নাকচ করে। প্রথম দিকে পুলিশের তদন্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ঘিরে আবর্তিত হলেও পরে তাতে জঙ্গিদের যোগাযোগ পান তদন্তকারীরা। প্রায় ৯ মাস তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী ২০১৬ সালের ৩ জুলাই রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেন। অভিযোগপত্রে আট আসামির নাম থাকলেও তাঁদের দুজন আগেই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, কুনিও হোশিকে লক্ষ্য করে পর পর তিনটি গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা। মোটরসাইকেলে তাঁরা তিনজন ছিলেন। গুলি করার পর মোটরসাইকেলে করে তাঁরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৬৬ বছর বয়সী কুনিও। হাকিম আদালত থেকে মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তরের পর ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর বিচার শুরু করে। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন রংপুরের বিশেষ জজ নরেশচন্দ্র সরকার।