• বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৯ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

পুরোনো নাকি নতুনের হাতে নেতৃত্ব!

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২২  

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বে কারা আসছেন- এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সংগঠন পরিচালনার ভার পুরোনোদের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে, নাকি নতুন কাউকে বেছে নেওয়া হচ্ছে- এ নিয়ে আছে নানা আলোচনাও। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আসছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই। এমনটাই মনে করছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। সেই সঙ্গে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাও।

এমন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই আজ শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের মাঠে (পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ) ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ শাখার বর্তমান সভাপতি বেনজীর আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপিসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

এতদিন পর্যন্ত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন রাজধানীর বাইরে হলেও, এবার খোদ নগরীতে আয়োজনের কারণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে এটি। আবার এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে বড় ধরনের শোডাউন করে বেশ উজ্জীবিত আছে আন্দোলনের মাঠে থাকা রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ কারণে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা ঢাকার এ সম্মেলন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলও। বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় আরেকটি বড় ধরনের শোডাউন করার প্রস্তুতিও শেষ করেছে তারা। একই সঙ্গে এই বিশাল সমাগমের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে পাল্টা জবাব দিতে চায় সরকারি দল। ফলে লাখো মানুষের জমায়েতের মাধ্যমে বিশাল শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এই সম্মেলনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনসমাগম কাকে বলে সেটা আগামীকাল (আজ) থেকে বিএনপিকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বিএনপির কোনো কোনো সমাবেশে দশ লাখ মানুষের টার্গেট করে এক লাখও হয়নি। আবার কোথাও পাঁচ লাখ টার্গেট করে এক লাখের অর্ধেকও হয়নি। এটাই তো তাদের সমাবেশের চেহারা। আর আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরীতে ওয়ার্ড ও থানার সম্মেলনে কত হাজার লোক হয়েছে তা দেখুন, যা গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে লোকসমাগমের চেয়ে বেশি নেতাকর্মী ও মানুষের সমাবেশ ঘটবে মাত্র একটি জেলার সম্মেলনে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সেটাই প্রমাণ হবে।

কে হচ্ছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক: দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠেয় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় ক্ষমতাসীন দলের আগামী তিন বছরের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তাই এই জেলায় কে সভাপতি আর কে সাধারণ সম্পাদক হবেন- সেটা নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন জেলার পাঁচটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, এবার সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় আছেন কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ এমপির পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নাম আলোচনার তুঙ্গে আছে। নতুন করে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের নামও সামনে আনছেন কেউ কেউ। তবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু নিজেই জানিয়েছেন, সভাপতি প্রার্থী হবেন না তিনি। ফলে বেনজীর আহমেদ ও ডা. এনামুর রহমানের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে পারেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।

বেনজীর আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন জেলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের দুঃসময়ে কাজ করেছি। আমার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিষয়ে নেতাকর্মীদের চেয়েও দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশি ওয়াকিবহাল। তাই জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই মেনে নেব।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, যে যাই বলুক, এ গুরুত্বপূর্ণ জেলার নেতা নির্বাচন করবেন দলের সভাপতি। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে দায়িত্ব দিলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ভালোভাবে পরিচালিত হবে।

অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান ছাড়াও বর্তমান ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাভারের মাসুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্য এবং কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের নাম আলোচনায় আছে।

বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, দলে যখন যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। কখনও দল পরিবর্তন করিনি। নেত্রী আবারও দায়িত্ব দিলে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করব।

মাসুদ চৌধুরী বলেন, পদ-পদবি বড় কথা নয়। দলের দুঃসময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্যুত হইনি, ভবিষ্যতেও হবো না। তবে আবারও দায়িত্ব পেলে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ উপহার দেওয়ার বিষয়ে সচেষ্ট থাকব।

পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থেকেও দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছি। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেলে সংগঠনকে আগের চেয়ে গতিশীল করার চেষ্টা করব।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে থাকায় ঢাকা জেলায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের নিষ্ফ্ক্রিয়তা দেখা দিয়েছে। এ কারণে সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জ- এই পাঁচ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা জেলার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় নেতাকর্মীরাই পালন করেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলার নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে অনেক জায়গায়ই দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। তাই তাঁদের আশা, নতুন নেতৃত্ব এলে দল শক্তিশালী হবে। কেউ কেউ বলছেন, তৃণমূল থেকে নেতা নির্বাচিত হলে দলের প্রতি কর্মীদের আস্থা থাকবে। যাঁরা দলের পরীক্ষিত নেতা, তাঁদেরই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা উচিত।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালে সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। যেখানে ২০০৪ সাল থেকে একই পদে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদকে সভাপতি ও মাহবুবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত করা হয়। এর ২১ মাস পর ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন বছরের ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরও সম্মেলন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ চলে আসছিল।