• শুক্রবার ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪৩০

  • || ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

পঁচাত্তরে কোথায় ছিল তাদের মানবতাবোধ?

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

কিছু দেশ আমাদের মানবতা ও মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল তাদের এই মানবতাবোধ?

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যাকারী জিয়ার গুম-খুন ও খালেদা জিয়ার অগ্নি সন্ত্রাসের ভুলুণ্ঠিত মানবাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রশ্ন তোলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।  ‘মায়ের কান্না’ সংগঠনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা সংসদ সদস্য নাহিদ এজাহার খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, একুশের পদকপ্রাপ্ত মানবাধিকার কর্মী এসএম আব্রাহাম লিংকন, দীপ্ত টিভির সিইও ফুয়াদ হাসান, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতুফুজ্জামান মিতা, ১৯৭৭ সালের গুম ও খুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতারা। 

আলোচনা সভার শুরুতে ‘গণদাবি-৭৭’ এবং ‘অগ্নি সন্ত্রাসের আর্তনাদ’ নামক দুটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়। আলোচনা সভায় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জিয়াউর রহমানকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করেন এবং তাঁর সময় গুম, খুন ও বিনা বিচারে হত্যা শুরু হয় উল্লেখ করে বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশে খুনের রাজনীতি শুরু করে। খালেদা জিয়ার শাসনামলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

 তিনি গুম, খুন ও অগ্নি সন্ত্রাসকারী দল যাতে করে আগামীতে আর কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।  সভায় ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বলেন, বিদ্রোহ দমনের নামে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান এক হাজার ১৫৬ জন সামরিক বাহিনীর সদস্যকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করে। তাঁরা জিয়ার মরণোত্তর বিচার ও সংসদ ভবন এলাকা থেকে তার কবর অপসারণের দাবি জানান।

তাঁরা আরো বলেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে একটি অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেন। পরবর্তীতে তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে জিয়াউর রহমান একদিনের সামরিক আদালতে বিচার করে সেই রাতেই ফাঁসি সম্পন্ন করেন নিরপরাধ সামরিক সদস্যদের। রাতের আঁধারে কারফিউ দিয়ে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।