• শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

  • || ১২ মুহররম ১৪৪৬

সাভারে মা*দকের রমরমা ব্যবসা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৪  

সাভার উপজেলার সর্বত্রই মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। পাড়া মহল্লা অলিগলি এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিচরণ নেই। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে শপিংমল কিংবা পাড়া মহল্লা, সড়কের আশেপাশের টং দোকানেও মাদকের বেচাকেনা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সামান্য উদ্ধার করলেও সিংহভাগই থেকে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে। এতে উঠতি বয়সী তরুণরা বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটছে।

ইতিমধ্যে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় জীবন দিতে হয়েছে দুই জনকে। ডিবি পুলিশের অভিযানকালে মাদক ব্যবসায়ী স্বপন মিয়ার বাড়ি দেখিয়ে দেওয়ার অপরাধে গত ২ জুন সীমা বেগম নামের এক এনজিওকর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ঐ মাদক ব্যবসায়ী ও তার লোকজন। এর তিন দিন পর সীমা বেগমের লাশ সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগর এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী স্বপন মিয়ার বাগানবাড়ির পাশ থেকে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এর ঠিক এক বছর আগে এমনই এক ঘটনায় স্বপনের হাতে প্রাণ যায় পৌর এলাকার ইমান্দিপুরের তোফাজ্জল হোসেন টোটন নামের এক পোশাক শ্রমিকের। সন্ত্রাসী স্বপন তাকেও হত্যা করে সাভারের আনন্দপুরস্থ সিটিলেনের নিজ বাড়ি মেঝের সাত ফুট নিচে পুঁতে রেখেছিল।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, সীমা আক্তার নামের এক নারী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম নামে স্বপনের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের খনিজনগরে স্বপনের বাগানবাড়ির পাশ থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় সীমা বেগম সীমার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কুখ্যাত মাদক কারবারি স্বপনকে একটি বিদেশি পিস্তল ও হেরোইনসহ গ্রেফতার করে। পরে স্বপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া তোফাজ্জল হোসেনের লাশও সন্ত্রাসী স্বপন মিয়া তার পৌরসভার সিটিলেনের বাসার নিচে পুঁতে রেখেছে। এরপর সিটিলেনের তার বাড়ির মেঝের সাত ফুট গভীরে খোঁড়াখুঁড়ি করে নিখোঁজ তোফাজ্জলের হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। সে আরও কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কিনা তা রিমান্ডে এনে জানার চেষ্টা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বপনের মতো আরও দুই শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সাভার ও আশুলিয়ার পুরো মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে ৩০ থেকে ৫০ জনের বেতনভুক্ত বাহিনী। যারা সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের চালান নিয়ে আসা থেকে শুরু করে মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেয়। এ চক্রটি নারীদেরও মাদক ব্যবসার টোপ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ায় তিন শতাধিক মাদক স্পট এবং বহু ভ্রাম্যমাণ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। ইয়াবা ট্যাবলেট পকেটে করে নির্বিঘ্নে বহন করা যায় বিধায় ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েই চলছে। এতে বিভিন্ন আবাসিক এলাকার অলিগলি ইয়াবা ট্যাবলেটে সয়লাব। ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য তৎপরতা চালালেও বন্ধ করা যাচ্ছে না এ ব্যবসা। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কিছু অসৎ কর্মকর্তা কিংবা সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেয়। অন্যদিকে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে অনেক বখাটে যুবক ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করেই গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছে। ক্রয় করেছে অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট। বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ জামান বলেন, মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক কোনো ছাড় নেই। সাভারে মাদক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি পুলিশের পাশাপাশি সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান।