• শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ৫ ১৪৩১

  • || ১২ মুহররম ১৪৪৬

হরিরামপুরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত জমির ফসল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৪  

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কৃষকের স্বপ্নের ফসল। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে ভেসে গেছে ফসলের মাঠ। এতে করে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক। হঠাৎ করে ক্ষেতে পানি আসায় মরিচ, ভুট্টা, চিনা বাদাম, তিল, আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা কৃষক।

উপজেলার এ সময়ের অন্যতম প্রধান ফসল কাঁচামরিচ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বিন্দু মরিচের আবাদ হয়েছে ১৭৫০ হেক্টর, কৃষিবিদ মরিচ ১১০৬, কারেন মরিচ ৬৫ হেক্টর। প্রচণ্ড খরা ও ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দফায় দফায় ক্ষতির সম্মুখীন হন মরিচ চাষিরা। মৌসুমের শেষ দিকে মরিচে কিছুটা লাভের আশা উঁকি দিতেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায় রাতারাতিই গাছ টলে পড়ছে৷ ঝরে পড়ছে মরিচের ফুল। ফলে কৃষকের লাভের আশা পরিণত হয়েছে গুড়ে বালিতে। উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ভুট্টা, চিনা বাদাম, তিল ও আউশ ধান নিয়েও বিপাকে কয়েক হাজার কৃষক।

আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন জানান, হঠাৎ করেই চরের নিম্নাঞ্চলে পানি চলে আসায় বাদাম, ভুট্টা, তিল, আউশ ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সময় মতো ফসল তুলতে পারছি না। এদিকে ক্ষেতে পানি আসায় মরিচের ফলন বিনষ্ট হয়ে পড়ায় কাঁচামরিচের দামও আকাশচুম্বী। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদের কাঁচামরিচ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে এ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা পাইকারী বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে।

গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর চরপাড়া গ্রামের সাহেব আলী বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। গাছ ভাণো হলেও আশানুরূপ ফলন পাইনি। এর মধ্যেই ক্ষেতে পানি চলে আসে। এতে লাভ তো দূরের কথা চালানই উঠেনি। উপজেলার ঝিটকা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন জানান, এ বাজার থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টন মরিচ রপ্তানি হতো। এ বছর আবাদ ভালো হলেও খরার কারণে ফলন নেই বললেই চলে। এ মৌসুমে ৭ থেকে ৮ টনের বেশি মরিচ আসেনি। আর এখন তো বন্যার পানি এসেছে। আজকের বাজারে মরিচ বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে।

খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী ওয়াসিম জানান, আজ আমরা মরিচ বিক্রি করছি ২৮০ টাকা করে। আমাদের যেভাবে কিনতে হয়, সেভাবেই বিক্রি করতে হয়। তবে পানি আসায় মরিচের আমদানি খুবই কম। বাইরে থেকে মরিচ আমদানি না হলে দাম আরও বাড়বে। এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান জানান, প্রতিবছরেই বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখোমুখি হন এই এলাকার কৃষকেরা। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ করার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।