• শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৭ ১৪২৯

  • || ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

ভোটের পরপরই আন্তর্জাতিক অভিনন্দনে ‘নির্ভার’ সরকার

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০১৯  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধী পক্ষের নানা অভিযোগ থাকলেও দ্রুতই আন্তর্জাতিক অভিনন্দনে ভাসছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার। নির্বাচনের পর বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সরকারের পাশে থাকারও অঙ্গীকার করছে। গুটিকয়েক দেশের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আহ্বান এলেও মহাজোট সরকারের সঙ্গেই কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছে তারাও। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এমন সমর্থনে বেশ ‘নির্ভার’ মহাজোটের নেতৃত্ব।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয় মহাজোট। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৮টির নির্বাচনে ২৮৮টিই পায় তারা। এরমধ্যে আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগই পায় ২৫৭টি আসন। এতে মাত্র সাতটি আসন পায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের দিন থেকেই ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ করে আসছে, ক্ষমতাসীনদের জেতাতে ব্যাপক কারচুপি-জালিয়াতি হয়েছে। এমনকি ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যফ্রন্টের সাত এমপি শপথই নেননি, উপরন্তু তারা বাকি প্রার্থীদের সঙ্গে পুনর্নির্বাচন দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে।

বিরোধীদের এই অভিযোগ-প্রত্যাখ্যানকে ‘ভোটের পরের সাধারণ রেওয়াজ’ ধরেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অভিনন্দন-শুভেচ্ছাবার্তা দিতে থাকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে। নির্বাচনে বিজয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রথমেই সরকারকে স্বাগত জানায় ভারত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে এ অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে এ সরকারের সঙ্গে ভারত কাজ করে যাবে বলেও জানান মোদী। তার পর ভারতের কংগ্রেস পার্লামিন্টারি পার্টির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিনন্দন জানান মহাজোটকে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানোর পরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্বাগত জানান শেখ হাসিনাকে। একইসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ো গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান, পাশাপাশি নৌকা উপহার দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিকে। চীনের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

মহাজোটের বিজয়ে সৌদি আরব, কাতার, ফিলিস্তিন, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সুদান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরাও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদাতা আওয়ামী লীগের ওপর পাকিস্তান রাষ্ট্র সবসময় ‘বিরাগভাজন’ অবস্থানে থাকলেও মহাজোটের বিজয়ে সেই দেশটিও অভিনন্দন জানিয়েছে। তারা বলেছে, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী পাকিস্তান।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, নরওয়ে ইত্যাদি দেশগুলোর অবস্থান প্রায় একই। এসব দেশ ভোটের দিন কোনো কোনো জায়গায় বিরোধীপক্ষকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপির এই নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে পশ্চিমাগোষ্ঠী। তবে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এখনো কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলেনি তারা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছে এসব দেশ।

বিশ্বের  অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ভোট বর্জনের পর  বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও লাখ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণে এই নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র উন্মুখ। তবে নির্বাচনের দিন অনিয়ম ও কিছু লোককে ভোটদান থেকে বিরত রাখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগও রয়েছে।

মহাজোটের বিজয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ  বলেন, বাংলাদেশে কিভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, সেটা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই নির্বাচনে ব্যাপকভাবে জনগণের অংশগ্রহণও ছিলো। সে কারণে নির্বাচনের পর বিজয়ী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মহাজোট সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনও বাড়ছে।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান  বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। বিদেশিদের এটাই নজর কেড়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ছোট-খাটো সহিংসতায় আওয়ামী লীগের কর্মীই মারা গেছে সবচেয়ে বেশি। সে কারণে বিদেশিদের সমর্থন এই সরকারের ওপরেই রয়েছে। বিদেশিরা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা চায়, সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। সে কারণে নির্বাচনে বিজয়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা মহাজোট সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন।