• বৃহস্পতিবার   ২৮ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১৩ ১৪২৮

  • || ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

উন্নয়নের প্রতিযোগিতা ময়মনসিংহে

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। রাজধানীমুখী মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছেন। ৫০০ শয্যার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এখন এক হাজার শয্যার। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চলছে ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে বহুল প্রত্যাশিত ব্রহ্মপুত্র নদ খননের কাজ। নবগঠিত তারাকান্দা উপজেলায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ ভবন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও মডেল মসজিদসহ নানা উন্নয়নও দৃশ্যমান। ফুলপুর উপজেলাতেও দৃশ্যমান নানা উন্নয়ন। মুক্তাগাছা উপজেলায় প্রধান সড়কের উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান। এছাড়া আরও ১১০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হচ্ছে। এক সময়কার সন্ত্রাসের জনপদ বলে খ্যাত গফরগাঁওয়ে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কাজ শেষ পর্যায়ে। এসবের বাইরে এলজিইডির উদ্যোগে গফরগাঁও সদরে ব্রহ্মপুত্র সেতু ও সড়ক বিভাগের খুরশিদ মহল ব্রহ্মপুত্র সেতুর সুবিধা ভোগ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। নান্দাইলে প্রায় এক হাজার কোটি ও গৌরীপুরে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান। হালুয়াঘাট উপজেলায় কড়ইতলী ও গোবরাকুড়া স্থল বন্দরের উন্নয়নসহ সীমান্ত সড়কের উন্নয়নও দৃশ্যমান। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৫৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে ঝড়ো গতিতে। এরমধ্যে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ১৭১ কিলোমিটার সড়ক আলোকিত করার কাজের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এমনসব নানা দৃশ্যমান উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বৃহৎ জেলা ময়মনসিংহ। তবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই চিত্র হতাশাজনক। একেই বলে বাতির নিচে অন্ধকার! ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ। করোনা পরিস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন জাতীয় পার্টির এই এমপি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ময়মনসিংহ সদরের উন্নয়নে। এরশাদ সরকার আমলে নির্মিত ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একমাত্র সেতু দিয়ে পারপার হচ্ছে সমুদয় যানবাহন। ফলে শেরপুর, হালুয়াঘাট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ সিলেট চট্টগ্রামগামী দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা থাকছে না। ব্রহ্মপুত্রে নদের ওপর একাধিক ব্রীজ নির্মাণের দাবি উপেক্ষিত। জেলা হাসপাতালসহ নানা উন্নয়নেও পিছিয়ে ময়মনসিংহ। যদিও ময়মনসিংহকে বিভাগে উন্নীতকরণে রওশন এরশাদ এমপি জোড়ালো ভ‚মিকা রেখেছেন। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি জানান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদরের প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিয়ে মানুষের হতাশা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল জানান, বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একাধিক ব্রীজ নির্মাণ ও ব্রহ্মপুত্র নদের কার্যকর দৃশ্যমান খননসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছে অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের ওপারে দৃষ্টিনন্দন নতুন বিভাগীয় শহর হবে-এমন প্রত্যাশা ছিল ময়মনসিংহবাসীর। কিন্তু স্থানীয়দের বাধা বিপত্তির কারণে বিমানবন্দর ও নতুন বিভাগীয় শহর করা যায়নি। এসব নানা কারণে উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ জানালেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ময়মনসিংহে দৃশ্যমান উন্নয়নের অন্যতম ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়ক। ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড় থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করায় বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী সহজে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভানীয় সুবিধা ভোগ করছেন। ভোগান্তি নেই পণ্য পরিবহনেও। তবে চারলেন সড়কের চরপাড়া মোড়, ত্রিশাল, ভালুকা ও মাওনাসহ কিছু কিছু এলাকায় দুই পাশের দুই লেন দখল করে যানবাহন ও কাভার্ড ভ্যান রাখায় এর পুরো সুফল মিলছে না। বৃহত্তর ময়মনসিংহে উন্নত চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীতকরণসহ আটতলা নতুন ভবন নির্মাণ কাজের উন্নয়ন দৃশ্যমান এবং এর সুফল পাচ্ছে ময়মনসিংহবাসী। টারসিয়ারি চরিত্রের এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার, অন্তর্বিভাগে প্রায় ৩ হাজার ও ওয়ানস্টপ সার্ভিসে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। হাসপাতালে হৃদরোগীদের জন্য ক্যাথল্যাব স্থাপন ও কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস স্থাপন বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর জন্য সুফল বয়ে এনেছে। চলছে ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুল প্রত্যাশিত ১৭তলা ভবন বিশিষ্ট ক্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে সম্প্রসারিত ১২ তলার ওয়ার্ড নির্মাণে আরও একটি প্রকল্পের প্রস্তাব রয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল কবীর জানান, হাসপাতাল কেন্দ্রিক এসব উন্নয়নের সুবিধা পাচ্ছেন এতদাঞ্চলের রোগী সাধারণ। সরকারের দুই হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদ খননের কাজ শুরু হয় গত ২০১৮ সালে। করোনা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে অবশ্য এই খনন কাজে এখন কোন গতি নেই। আগামী তিনবছরের মধ্যে এই খনন কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কা স্থানীয়দের। এ নিয়ে অনেকটাই হতাশ ময়মনসিংহবাসী। তবে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী রাকীব জানান, এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। শীঘ্রই শুরু হচ্ছে খনন। ব্রহ্মপুত্র পারের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ছাড়াই এই খনন নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ব্রহ্মপুত্র পারের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন জাদুঘরকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পল্লী গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। নগরীর রহমতপুরে সড়ক বিভাগের উদ্যোগে ব্রহ্মপুত্রে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরসঙ্গে শেরপুর-ফুলপুরের রামভদ্রপুর-ময়মনসিংহ সদরের রহমতপুর সড়ক সংযোগ হওয়ার কথা। নগরীর শিকারীকান্দা এলাকায় শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও দেয়া হয়েছে বরাদ্দ। নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় দেশের প্রথম দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চওয়ে সেতুর জন্য ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ পাস হয়েছে একনেকের সভায়। এই প্রকল্পে ব্রহ্মপুুত্র নদের ওপর ৩২০ মিটার স্টিল সেতু, ৭৮০ মিটার এপ্রোচ সড়ক, ২৪০ মিটার রেলওয়ে ওভারপাস ও ৫৫১ মিটার ওভারপাস সড়ক রয়েছে। এসব কিছুই হবে চারলেনের। এটি দৃশ্যমান হলে ময়মনসিংহের প্রবেশপথের যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। নগরীর জিরো পয়েন্ট ও জেলখানা ঘাট দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর আরও দুটি সেতু নির্মাণের দাবি রয়েছে। ময়মনসিংহ নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ২০ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণের সুফল পাচ্ছেন নগরবাসীর একাংশ। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে নগরীর ২৪ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন স্থাপন ও ১৫টি গভীর নলক‚প বসানোর কাজ ছাড়াও স্টেশন রোড, বড় বাজার, বাউন্ডারি রোড ও কাশরসহ ৪৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ দৃশ্যমান। নগরীর সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে ১৭১ কোটি টাকার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে টেন্ডার আহŸান করা হয়েছে। এর বাইরে নগরীতে ৬টি ফুট ওভারব্রীজ ৩টি আরসিসি ব্রীজ ও ১৩টি কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। নগরীর পাটগুদাম ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের পূর্বপাশ থেকে রঘুরামপুর পর্যন্ত চারলেন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু পার্ক ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণও প্রক্রিয়াধীন। ময়মনসিংহ সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, এসব কাজ দৃশ্যমান হলে বদলে যাবে পুরো নগরের চেহারা।

ময়মনসিংহের নবগঠিত তারাকান্দা উপজেলায় উন্নয়নের মহোৎসব চলছে। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত ভাষা সংগ্রামী ও সাবেক এমপি এম শামছুল হকের পুত্র গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপির নেতৃত্বে উন্নয়নের জোয়ারে বদলে গেছে পুরো তারাকান্দার চেহারা। দৃশ্যমান নানা উন্নয়নে খুশি এলাকার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বহুল প্রত্যাশিত তারাকান্দার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। নির্মাণ কাজ শেষে কার্যক্রম চলছে তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ ভবনের। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও মডেল মসজিদের উন্নয়নও দৃশ্যমান। এসব কাজে সরকারের ব্যয় হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার ওপরে। এসবের বাইরে সড়ক বিভাগ ও এলজিইডির উদ্যোগে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থারও নানা উন্নয়নসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ মাদ্রাসার নানা উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করছেন এলাকাবাসী। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমদে এমপি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফুলপুর ও তারাকান্দার পরিকল্পিত উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশকিছু উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে এবং বেশকিছু কাজ পাইপলাইনে রয়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্কুল ও কলেজসহ মসজিদ মাদ্রাসার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে ফুলপুর উপজেলাতেও।

মুক্তাগাছা উপজেলা সদরে প্রধান সড়কের উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান। পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রকল্প বাস্তবায়ন, এলইডি বাতি স্থাপন, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকার কাজ দৃশ্যমান। আরও ২০০ কোটি টাকার কাজ পাইপ লাইনে রয়েছে। এর বাইরে ১১০০ কোটি টাকায় ময়মনসিংহের জিরো পয়েন্ট থেকে মুক্তাগাছা হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়েছে। ডিপিপি শেষে টেন্ডার দিয়ে শুরু হবে এর কার্যক্রম। এরমধ্যে মুক্তাগাছা বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজও রয়েছে। বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে মুক্তাগাছার চেহারা।

ময়মনসিংহ জেলায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশকিছু কাজ দৃশ্যমান গফরগাঁওয়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল জনকণ্ঠকে জানান, অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত গফরগাঁওকে বদলে দিতে পরিকল্পিত নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভালুকা গফরগাঁও কিশোরগঞ্জ হোসেনপুর ৩০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে। ১৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গফরগাঁও মাওনা বর্মী ২৪ কিলোমিটার সড়ক ও ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ গফরগাঁও টোক পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ দৃশ্যমান। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর এলজিইডি ও সড়ক বিভাগের দুটি ব্রীজ নির্মাণ গফরগাঁওকে পাশের নান্দাইল উপজেলা এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলাকে সরাসরি যুক্ত করায় এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে কমেছে সময় ও ভাড়া। কমেছে ভোগান্তি। রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ¦বর্তী টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জকে সহজ যোগাযোগ নেটওয়ার্কে এনেছে গফরগাঁওয়ের এই সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন। এসবের বাইরে মডেল মসজিদ নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নও দৃশ্যমান। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছেন এক সময়কার সন্ত্রাসের জনপদ বলে খ্যাত গফরগাঁওবাসী। এসব উন্নয়নে খুশি গফরগাঁওবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

ময়মনসিংহের উন্নয়নে খুশি নান্দাইলের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহীন জনকণ্ঠকে জানান, প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। এরমধ্যে ২৫১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুত খাতের উন্নয়ন, ২০০ কোটি ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন, ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন রয়েছে। নান্দাইলের মানুষ এসব উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে।

গৌরীপুরে ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরগঞ্জ শাহগঞ্জ নেত্রকোনার ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ দৃশ্যমান। এর বাইরে জলরুরুঙ্গা নদীতে সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ নির্মাণসহ আরও ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ যোগাযোগ, স্কুল-কলেজ মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নও দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ। আরও বেশকিছু উন্নয়ন প্যাকেজ পাইপলাইনে থাকার কথাও জানান এই এমপি।

ভারতের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের নানা উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া ও কড়ইতলী বন্দরের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। সরকারের ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে। এর বাইরে ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে হালুয়াঘাট ধোবাউড়ার ২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে হালুয়াঘাট নালিতাবাড়ির ৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজও শেষ হওয়ায় এই উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, ধোবাউড়াতেও গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামোসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক উন্নয়ন দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ।