• রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ২১ ১৪২৮

  • || ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

শেখ হাসিনা বার্নে কম খরচে করা যাবে কৃত্রিম হাত-পা সংযোজন

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২১  

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতি বছর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অসংখ্য মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন পাঁচ শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ থাকেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোড়া রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্ববৃহৎ হাসপাতাল শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়ার পরও রোগীদের অনেকেই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসকরা নিরূপায় হয়ে তাদের কারও হাত, কারও পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশুকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাত ও পা হারানো অসহায় রোগীদের কেউ কেউ বেসরকারি হাসপাতালে হাজার হাজার টাকা খরচ করে কৃত্রিম হাত ও পা সংযোগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রচেষ্টা চালান। তবে আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় অনেকেই কৃত্রিম হাত-পা স্থাপন করতে না পেরে পঙ্গুত্বকে মেনে নেন।

তবে এ ধরনের অসহায় রোগীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতাল। তারা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কৃত্রিম হাত-পা এবং ব্রেইস সংযোগ কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

আগামী ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ইতোমধ্যেই কেন্দ্রটি স্থাপনের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কৃত্রিম হাত-পা ও ব্রেইস প্রয়োজন এমন রোগীদেরও তালিকা হচ্ছে।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের কাছে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে ব্র্যাক কৃত্রিম হাত-পা এবং ব্রেইস সংযোজন কেন্দ্র হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কেন্দ্রে কৃত্রিম হাত ও পা, ব্রেইস এবং কাউন্সিলিং প্রদান করা হবে।

জানতে চাইলে বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘হাসপাতালে প্রতি সপ্তাহে ১০-১৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্টজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তাদের অনেকেরই হাত-পা কেটে ফেলতে হয়। বেসরকারি হাসপাতালে কৃত্রিম হাত-পা সংযোজনে অনেক টাকা প্রয়োজন হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেক রোগীই সেই খরচ বহন করতে না পেরে পঙ্গু জীবন পার করেন। তাদের কথা ভেবেই ব্র্যাকও তাদের যৌথ উদ্যোগে এ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের ফলে বেসরকারি যে কোনো হাসপাতালের চেয়ে অর্ধেক খরচ ও রোগীভেদে বিনামূল্যে কৃত্রিম হাত-পা ও ব্রেইস সরবরাহ করা হবে।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পাওয়া গেলে এ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। তবে এখন থেকেই আগ্রহী রোগীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে।’