• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত ভয়াবহতা রুখতে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০১৯  

আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা- ২০১৯। পরীক্ষা সুশৃঙ্খল করতে এরমধ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তৎপরতা শুরু করা প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রকে ধরতে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।

এদিকে শুধু শিক্ষার্থী বা প্রশ্ন পাচারকারী সদস্যদের নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বেড়ে চলার দায় নিতে হবে অভিভাবকদেরকেও। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রশ্ন কিনতে সন্তানদের টাকা দিয়ে যেমন উৎসাহিত করছেন আবার নিজেরাও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রশ্ন কিনে দিচ্ছেন সন্তানকে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য বলেন, ভাবতেও অবাক লাগে, আমরা এমন এক যুগে পদার্পণ করেছি, যেখানে অভিভাবকরাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। বিগত সময়ে এসএসসি পরীক্ষার সময়ও রাজধানীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে দেখা গেল কয়েকজন অভিভাবকের ব্যস্ততা। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের কাছ থেকে প্রশ্ন কিনে পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে তা সন্তানকে দেখাচ্ছেন তারা। যত কার্যকর ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হোক না কেন, অভিভাবকরা সচেতন না হলে কোন ব্যবস্থাই কাজে আসবে না বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

শুধু ভালো সিজিপিএর জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসে উৎসাহ দিয়ে অভিভাবকরা নিজের সন্তানদের যে ক্ষতি করছেন তা কখনোই পূরণ হবার নয় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষাখাত একদিন নিশ্চিত ভাবে অন্ধকার পথে চলে যাবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি ব্যাধি, এটি প্রতিরোধ করতে হবে আমাদের সকলের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে অভিভাবকদের ভূমিকা সবার থেকে বেশি জরুরি। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পাস করা যায়, মানুষ হওয়া যায় না। দেশকে ভালবাসলে এই সমস্যার সমাধানে সকলের এক হয়ে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের হতে হবে সচেতন। সন্তানদের এই পথ থকে সরিয়ে আনতে পারবেন তারাই। সন্তান এই অপরাধের সাথে জড়িত আছে কিনা সেটা অভিভাবকদের জানার কথা। তাই অভিভাবকরা সচেতন হলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।