• সোমবার   ২৩ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে না

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২  

বাংলাদেশে যে রেমিট্যান্স আসে এবং যে রপ্তানি আয় তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের যে অভ্যন্তরীণ বাজার, সেটি বড়। বাংলাদেশে এখন প্রায় তিন কোটি মানুষের মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ডলারের বেশি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সংখ্যাটি পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনা হয় না।’

বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো উন্নয়নশীল দেশের তুলনা করতে নারাজ তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত অনেক গভীর। বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের যে রিজার্ভ আছে, তা দিয়ে এক বছরের পণ্য কেনার সামর্থ্য আমাদের আছে।’

সচিবালয়ে ১০ মে মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। পর্যটননির্ভর শ্রীলঙ্কান সরকারের রাজস্ব আয়ের খাত পর্যটনে ধস নেমেছে করোনার দুই বছরে। পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকায় কার্যত এ খাত থেকে দেশটির আয় হয়নি। কিন্তু পর্যটক আকৃষ্ট করতে গ্রহণ করা নানা প্রকল্পে আগে নেয়া বিপুল বিদেশি ঋণের কিস্তি ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে।

শিল্পোৎপাদনে ধস নেমেছে, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও পৌঁছেছে তলানিতে। পাশাপাশি কর ও ভ্যাট কমানো, কৃষিতে রাসায়নিকের ব্যবহার শূন্যতে নামিয়ে আনার কারণে উৎপাদনের ঘাটতি, সব মিলিয়ে কিছু ভুল পরিকল্পনা আর পদক্ষেপের কারণে দেশটির অর্থনীতি ধসে পড়েছে।

দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার এখন আকাশচুম্বী। দিনে ১৩ ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে বিদ্যুৎ, কাগজ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলের পরীক্ষা।

বাংলাদেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি হয় কি না, এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এখন তু্ঙ্গে। যদিও অর্থনীতিবিদরা এই আশঙ্কার কোনো কারণ দেখছেন না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যে রেমিট্যান্স আসে এবং যে রপ্তানি আয় তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের যে অভ্যন্তরীণ বাজার, সেটি বড়। বাংলাদেশে এখন প্রায় তিন কোটি মানুষের মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ডলারের বেশি। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সংখ্যাটি পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনা হয় না।’

বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি সরকারকে সংকটে ফেলছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে তো প্রচুর ভর্তুকি দেয়া হয়। ভর্তুকি না দিলে তো বিদ্যুতের দাম অনেক বাড়বে। সেটি তো সাধারণ মানুষের জন্য অসুবিধা হবে। সেটি বিবেচনায় রেখে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। সরকার কৃষি খাতেও প্রচুর ভর্তুকি দিচ্ছে।’

আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীর ৯২তম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, আলু উৎপাদনে সপ্তম অবস্থানে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘আলু আমরা এখন রপ্তানি করছি। ভর্তুকি দেয়ায় আমাদের অর্থনীতি, আমাদের কৃষি, সার্বিকভাবে দেশ উপকৃত হচ্ছে।’