• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

বাংলাদেশের অর্থনীতি শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২২  

জ্বালানি তেলের সংকট। রান্নার গ্যাসের অভাব। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভয়ংকর খাদ্য সংকট ও জটিল এক অর্থনৈতিক সংকটে তলানিতে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। এসবের কারণে রয়েছে শ্রীলঙ্কান সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত। শ্রীলঙ্কার এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মেগা প্রকল্প নিয়েও কথা উঠেছে, এই দেশের সামনেও এমন আশঙ্কা আছে কি না?

বাংলাদেশের পরিণতিও শ্রীলঙ্কার মতো হবে কি না, তা নিয়ে নানা লেখা ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।  সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারকে উৎখাত করার অপচেষ্টায় দেশের বিরোধী দলের নেতারাও বক্তৃতায় তুলে ধরছেন প্রসঙ্গটি। 

তবে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিপর্যয়ের যেসব কারণ তুলে ধরছেন, সেগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিগুলো নেই।  বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির মধ্যে তুলনা চলে না। দুটির গতি-প্রকৃতি ভিন্ন। এখানে উৎপাদনে ঘাটতি নেই। পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রধান খাদ্যপণ্যও আমদানিনির্ভর নয়। আর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণও শ্রীলঙ্কার মতো মাথাপিছু এত বেশি নয়। বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনো চাপই তৈরি করছে না। দেশের রিজার্ভও শ্রীলঙ্কার তুলনায় আকাশচুম্বি বলা যায়।

গত ১৫ বছরে শ্রীলঙ্কায় সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, রাস্তা এবং আরও নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী কলম্বোর কাছেই সমুদ্র থেকে ভূমি উদ্ধার করে কলম্বো পোর্ট সিটি নামে আরেকটি শহর তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ২৫ বছর এবং বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার।

এই শহরটি হংকং, দুবাই ও সিঙ্গাপুরকে টেক্কা দেবে- এমন কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে শ্রীলঙ্কা ঋণ নিয়েছে, কিন্তু বিপুল অর্থ খরচ করা হলেও অনেক প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়নি।

গত এক দশকে চীনের কাছ থেকেই শ্রীলঙ্কা ঋণ নিয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট ঋণের ১০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের নেয়া মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেল, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল। এই প্রকল্পগুলো অপ্রয়োজনীয় এবং সেগুলো লাভজনক হবে না- এমন কথা কোনো বিশ্লেষক বলেননি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাংলাদেশের জিডিপিতে অবদান রাখবে এবং দেশের অর্থনৈতিক  উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। যেমন- ধরা যাক, পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে এবং এটি আমাদের অর্থনীতিতে একটি বড় অবদান রাখবে। পাশাপাশি মেট্রোরেল হলে ঢাকা শহরের যানজট কমবে, এমনকি মানুষের কর্মমুখরতাও বৃদ্ধি পাবে। কাজেই, জনসম্পৃক্ত মেগা প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন দায় হবে না বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিদেশী ঋণ শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ধসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে বিদেশি ঋণ নিয়ে। দেশটি নানা মেগাপ্রকল্পে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যেগুলো লাভজনক হয়নি। তবে করোনার সময় ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে রিজার্ভে পড়েছে চাপ।

বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বা পরিমাণ ৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮০ লাখ (৪৯.৪৫ বিলিয়ন) ডলার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৩ লাখ। এই হিসাবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ হয় ২৯২ দশমিক ১১ ডলার।

২ কোটি মানুষের দেশ শ্রীলঙ্কার বিদেশি ঋণের মোট পরিমাণ ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই হিসাবে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৬৫০ ডলার। বাংলাদেশের তুলনায় শ্রীলঙ্কার জনগণের মাথাপিছু ঋণ সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় শ্রীলঙ্কার জনগণের মাথাপিছু ঋণ সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

২০১৪ সাল থেকেই ঋণের বোঝা বাড়তে শুরু করে কলম্বোর। সেই সঙ্গে ক্রমেই মুখ থুবড়ে পড়ে জিডিপি। ২০১৯ সালে বিদেশি ঋণ পৌঁছে যায় জিডিপির ৪২ দশমিক ৮ শতাংশে, বাংলাদেশে এটা ১৩ শতাংশেরও নিচে।

বর্তমানে যা পরিস্থিতি, বছরে সব মিলিয়ে অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার শোধ করতেই হবে শ্রীলঙ্কাকে। অন্যদিকে প্রবাসী আয়, রপ্তানি ও পর্যটন খাতে আয় কমায় এই ঋণ পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ছোট-বড় সব প্রকল্পেই কিন্তু বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, জাইকাসহ অন্য উন্নয়ন সংস্থার ঋণ এবং নিজের অর্থ যোগ করেছে।

‘এসব সংস্থার সুদের হার খুবই কম। অনেক বছর ধরে শোধ করা যায়। কোনো কোনো ঋণ অবশ্য পরবর্তী সময়ে অনুদান হিসেবে অন্য প্রকল্পেও দেয়। বিশেষ করে জাইকার বেশির ভাগ ঋণের ক্ষেত্রে এমনটা হয়ে থাকে। ‘অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা চীনের কাছ থেকে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট (যে দেশ টাকা দেবে, সে দেশ থেকে পণ্য কেনা) ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রয়োজন নেই, এমন অনেক প্রকল্পও তারা করেছে। এসব প্রকল্পের সুদের হার অনেক বেশি। সেসব ঋণ সুদে-আসলে পরিশোধ করতে গিয়েই এখন বিপদে পড়েছে শ্রীলঙ্কা।’

রেমিট্যান্সেও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি ভিত্তিমূল হলো প্রবাসী অভিবাসীদের রেমিটেন্স। এই রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় একটি ভিত্তি দিয়েছে। এই রেমিটেন্সের কারণেই বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের দায় মেটাতে পারছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে পারছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় শক্তি, যেটি শ্রীলংকার ছিল না।

শ্রীলঙ্কার রেমিট্যান্সের জানুয়ারি মাসের তথ্য পাওয়া গেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে। তাতে দেখা যায়, জানুয়ারিতে মাত্র ২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশটিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারী মাসে ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। 

এছাড়াও ফেব্রুয়ারীতে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মার্চে ১৮৬ কোটি ডলার ও গেল এপ্রিল মাসে ২০০ কোটি  ডলারের বেশি রেমিট্যান্স গ্রহন করে গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙ্গেছে বাংলাদেশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারির মধ্যেও ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সোয়া কোটি বাংলাদেশি।

শ্রীলঙ্কা ক্যালেন্ডার বছরকে আর্থিক বছর ধরে। ২০২১ সালে দেশটিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮ বিলিয়ন ডলারের মতো।

অর্থাৎ করোনায় শ্রীলঙ্কার প্রবাসী আয় কমেছে বহুলাংশে। অন্যদিকে বাংলাদেশে এই সময়ে রেমিট্যান্স-প্রবাহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া বিস্মিত করেছে অর্থনীতিবিদ এমনকি বিশ্বব্যাংকের মতো দাতা সংস্থাগুলোকেও। তাদের পূর্বানুমান ছিল, করোনার সময় রেমিট্যান্স অনেক কমে যাবে।

দেড় বছর বাড়ার পর রেমিট্যান্সের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও গত কয়েক মাসে আবার গতি ঊর্ধ্বমুখী।

রফতানিতেও এগিয়ে বাংলাদেশ

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার রপ্তানি আয় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৮.৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয় শ্রীলঙ্কার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশ রফতানি আয়ে চমক দেখিয়ে চলেছে। গত অর্থবছরে ১৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে তারও দ্বিগুণ ৩৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। 

মার্চ মাসের রফতানি আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তাতে দেখা যায়, এই মাসে পণ্য রফতানি থেকে ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা পণ্য রফতানি থেকে আয় করেছে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ করোনা শ্রীলঙ্কার রফতানি আয়ে ধস নামালেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এই আয় এখন আরও বাড়ছে। 

রিজার্ভ সংকটে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ নয়! 

গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারেরও কম। গত জানুয়ারি মাস শেষে শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ছিল ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ করোনার ধাক্কা শ্রীলঙ্কার রিজার্ভকে তলানিতে নিয়ে এলেও বাংলাদেশে তেমনটা হয়নি। সেটি বেড়েছে বহুলাংশে। মাঝে একবার ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।

অন্যদিকে করোনা মহামারি আসার পর থেকেই রিজার্ভ সংকটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। রিজার্ভ বাড়াতে গত বছরের মে মাসে সোয়াপ কারেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছে ২৫ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তা দিয়েছে। ওই ঋণ এখনও শোধ করেনি দেশটি। এরই মধ্যে আরও ২৫ কোটি ডলার চেয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় চালিকা শক্তি হলো ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রাণশক্তি। তারা বেঁচে থাকার জন্য নানারকম উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জড়িয়েছেন এবং এমনভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যে বাংলাদেশ কখনোই অর্থনৈতিক একটি সংকটের মধ্যে পড়তে পড়বেনা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি জায়গা হলো কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, খাদ্য উৎপাদন। বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে বটে কিন্তু খাদ্যের স্বল্পতা দেখা যায় না। বাংলাদেশের কৃষির একটি অসাধারণ শক্তি রয়েছে। এমনকি করোনাকালের মধ্যেও বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে।

যার কারনে বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্য মজুত আছে। সরকারি গুদামগুলোতে মজুত অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, ২০ লাখ টনের মতো। কয়েক বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় মানুষের কাছেও প্রচুর ধান-চাল মজুত আছে। তাই খাদ্য নিয়ে বাংলাদেশকে ভাবতে হচ্ছে না। এর মধ্যেও সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর এই মুহূর্তে খাদ্যের মজুত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

ফলে মূল্যস্ফীতি শ্রীলঙ্কার মতো ২০ শতাংশে ওঠার কোনো কারণ নেই বাংলাদেশের। 

শ্রীলঙ্কার দেউলিয়াত্ব এবং অর্থনৈতিক ধস থেকে সময় থাকতে যেন আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি, এই  পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রত্যাশা বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কার মত হবে না,  আমাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত। কারন বাংলাদেশ যার হাতে পরিচালনা হচ্ছে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি কখনও বাংলাদেশের মাথা নিচু হতে দিবেন না।

জ্বালানি তেলের সংকট। রান্নার গ্যাসের অভাব। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভয়ংকর খাদ্য সংকট ও জটিল এক অর্থনৈতিক সংকটে তলানিতে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা।  

এসবের কারণে রয়েছে শ্রীলঙ্কান সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত। শ্রীলঙ্কার এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মেগা প্রকল্প নিয়েও কথা উঠেছে, এই দেশের সামনেও এমন আশঙ্কা আছে কি না?

বাংলাদেশের পরিণতিও শ্রীলঙ্কার মতো হবে কি না, তা নিয়ে নানা লেখা ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারকে উৎখাত করার অপচেষ্টায় দেশের বিরোধী দলের নেতারাও বক্তৃতায় তুলে ধরছেন প্রসঙ্গটি। 

তবে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিপর্যয়ের যেসব কারণ তুলে ধরছেন, সেগুলো বিবেচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিগুলো নেই। 

বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির মধ্যে তুলনা চলে না। দুটির গতি-প্রকৃতি ভিন্ন। এখানে উৎপাদনে ঘাটতি নেই। পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রধান খাদ্যপণ্যও আমদানিনির্ভর নয়। আর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণও শ্রীলঙ্কার মতো মাথাপিছু এত বেশি নয়। বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনো চাপই তৈরি করছে না। দেশের রিজার্ভও শ্রীলঙ্কার তুলনায় আকাশচুম্বি বলা যায়।

গত ১৫ বছরে শ্রীলঙ্কায় সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, রাস্তা এবং আরও নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানী কলম্বোর কাছেই সমুদ্র থেকে ভূমি উদ্ধার করে কলম্বো পোর্ট সিটি নামে আরেকটি শহর তৈরি করা হচ্ছে। এর কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ২৫ বছর এবং বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার।

এই শহরটি হংকং, দুবাই ও সিঙ্গাপুরকে টেক্কা দেবে- এমন কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে শ্রীলঙ্কা ঋণ নিয়েছে, কিন্তু বিপুল অর্থ খরচ করা হলেও অনেক প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়নি।

গত এক দশকে চীনের কাছ থেকেই শ্রীলঙ্কা ঋণ নিয়েছে পাঁচ বিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট ঋণের ১০ শতাংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের নেয়া মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেল, ঢাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা সমুদ্রবন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল। এই প্রকল্পগুলো অপ্রয়োজনীয় এবং সেগুলো লাভজনক হবে না- এমন কথা কোনো বিশ্লেষক বলেননি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাংলাদেশের জিডিপিতে অবদান রাখবে এবং দেশের অর্থনৈতিক  উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। যেমন- ধরা যাক, পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে এবং এটি আমাদের অর্থনীতিতে একটি বড় অবদান রাখবে। পাশাপাশি মেট্রোরেল হলে ঢাকা শহরের যানজট কমবে, এমনকি মানুষের কর্মমুখরতাও বৃদ্ধি পাবে। কাজেই, জনসম্পৃক্ত মেগা প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন দায় হবে না বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিদেশী ঋণ

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ধসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে বিদেশি ঋণ নিয়ে। দেশটি নানা মেগাপ্রকল্পে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যেগুলো লাভজনক হয়নি। তবে করোনার সময় ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে রিজার্ভে পড়েছে চাপ।

বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি বা পরিমাণ ৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮০ লাখ (৪৯.৪৫ বিলিয়ন) ডলার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৩ লাখ। এই হিসাবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ হয় ২৯২ দশমিক ১১ ডলার।

২ কোটি মানুষের দেশ শ্রীলঙ্কার বিদেশি ঋণের মোট পরিমাণ ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই হিসাবে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৬৫০ ডলার।

বাংলাদেশের তুলনায় শ্রীলঙ্কার জনগণের মাথাপিছু ঋণ সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় শ্রীলঙ্কার জনগণের মাথাপিছু ঋণ সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

২০১৪ সাল থেকেই ঋণের বোঝা বাড়তে শুরু করে কলম্বোর। সেই সঙ্গে ক্রমেই মুখ থুবড়ে পড়ে জিডিপি।

২০১৯ সালে বিদেশি ঋণ পৌঁছে যায় জিডিপির ৪২ দশমিক ৮ শতাংশে, বাংলাদেশে এটা ১৩ শতাংশেরও নিচে।

বর্তমানে যা পরিস্থিতি, বছরে সব মিলিয়ে অন্তত ৮ বিলিয়ন ডলার শোধ করতেই হবে শ্রীলঙ্কাকে। অন্যদিকে প্রবাসী আয়, রপ্তানি ও পর্যটন খাতে আয় কমায় এই ঋণ পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের ছোট-বড় সব প্রকল্পেই কিন্তু বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি, জাইকাসহ অন্য উন্নয়ন সংস্থার ঋণ এবং নিজের অর্থ যোগ করেছে।

‘এসব সংস্থার সুদের হার খুবই কম। অনেক বছর ধরে শোধ করা যায়। কোনো কোনো ঋণ অবশ্য পরবর্তী সময়ে অনুদান হিসেবে অন্য প্রকল্পেও দেয়। বিশেষ করে জাইকার বেশির ভাগ ঋণের ক্ষেত্রে এমনটা হয়ে থাকে।

‘অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা চীনের কাছ থেকে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট (যে দেশ টাকা দেবে, সে দেশ থেকে পণ্য কেনা) ঋণ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। প্রয়োজন নেই, এমন অনেক প্রকল্পও তারা করেছে। এসব প্রকল্পের সুদের হার অনেক বেশি। সেসব ঋণ সুদে-আসলে পরিশোধ করতে গিয়েই এখন বিপদে পড়েছে শ্রীলঙ্কা।’

রেমিট্যান্সেও এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি ভিত্তিমূল হলো প্রবাসী অভিবাসীদের রেমিটেন্স। এই রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় একটি ভিত্তি দিয়েছে। এই রেমিটেন্সের কারণেই বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের দায় মেটাতে পারছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে পারছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় শক্তি, যেটি শ্রীলংকার ছিল না।

শ্রীলঙ্কার রেমিট্যান্সের জানুয়ারি মাসের তথ্য পাওয়া গেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে। তাতে দেখা যায়, জানুয়ারিতে মাত্র ২৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশটিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারী মাসে ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। 

এছাড়াও ফেব্রুয়ারীতে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মার্চে ১৮৬ কোটি ডলার ও গেল এপ্রিল মাসে ২০০ কোটি  ডলারের বেশি রেমিট্যান্স গ্রহন করে গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙ্গেছে বাংলাদেশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারির মধ্যেও ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সোয়া কোটি বাংলাদেশি।

শ্রীলঙ্কা ক্যালেন্ডার বছরকে আর্থিক বছর ধরে। ২০২১ সালে দেশটিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮ বিলিয়ন ডলারের মতো।

অর্থাৎ করোনায় শ্রীলঙ্কার প্রবাসী আয় কমেছে বহুলাংশে। অন্যদিকে বাংলাদেশে এই সময়ে রেমিট্যান্স-প্রবাহ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া বিস্মিত করেছে অর্থনীতিবিদ এমনকি বিশ্বব্যাংকের মতো দাতা সংস্থাগুলোকেও। তাদের পূর্বানুমান ছিল, করোনার সময় রেমিট্যান্স অনেক কমে যাবে।

দেড় বছর বাড়ার পর রেমিট্যান্সের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও গত কয়েক মাসে আবার গতি ঊর্ধ্বমুখী।

রফতানিতেও এগিয়ে বাংলাদেশ

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার রপ্তানি আয় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩৮.৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয় শ্রীলঙ্কার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশ রফতানি আয়ে চমক দেখিয়ে চলেছে। গত অর্থবছরে ১৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে তারও দ্বিগুণ ৩৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। 

মার্চ মাসের রফতানি আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। তাতে দেখা যায়, এই মাসে পণ্য রফতানি থেকে ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা পণ্য রফতানি থেকে আয় করেছে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ করোনা শ্রীলঙ্কার রফতানি আয়ে ধস নামালেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এই আয় এখন আরও বাড়ছে। 

রিজার্ভ সংকটে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ নয়! 

গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলারেরও কম। গত জানুয়ারি মাস শেষে শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ছিল ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ করোনার ধাক্কা শ্রীলঙ্কার রিজার্ভকে তলানিতে নিয়ে এলেও বাংলাদেশে তেমনটা হয়নি। সেটি বেড়েছে বহুলাংশে। মাঝে একবার ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল।

অন্যদিকে করোনা মহামারি আসার পর থেকেই রিজার্ভ সংকটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। রিজার্ভ বাড়াতে গত বছরের মে মাসে সোয়াপ কারেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশের কাছে ২৫ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ তা দিয়েছে। ওই ঋণ এখনও শোধ করেনি দেশটি। এরই মধ্যে আরও ২৫ কোটি ডলার চেয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় চালিকা শক্তি হলো ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রাণশক্তি। তারা বেঁচে থাকার জন্য নানারকম উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে জড়িয়েছেন এবং এমনভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন যে বাংলাদেশ কখনোই অর্থনৈতিক একটি সংকটের মধ্যে পড়তে পড়বেনা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি জায়গা হলো কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, খাদ্য উৎপাদন। বাংলাদেশের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে বটে কিন্তু খাদ্যের স্বল্পতা দেখা যায় না। বাংলাদেশের কৃষির একটি অসাধারণ শক্তি রয়েছে। এমনকি করোনাকালের মধ্যেও বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে।

যার কারনে বাংলাদেশে প্রচুর খাদ্য মজুত আছে। সরকারি গুদামগুলোতে মজুত অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, ২০ লাখ টনের মতো। কয়েক বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় মানুষের কাছেও প্রচুর ধান-চাল মজুত আছে। তাই খাদ্য নিয়ে বাংলাদেশকে ভাবতে হচ্ছে না। এর মধ্যেও সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর এই মুহূর্তে খাদ্যের মজুত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

ফলে মূল্যস্ফীতি শ্রীলঙ্কার মতো ২০ শতাংশে ওঠার কোনো কারণ নেই বাংলাদেশের। 

শ্রীলঙ্কার দেউলিয়াত্ব এবং অর্থনৈতিক ধস থেকে সময় থাকতে যেন আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি, এই  পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রত্যাশা বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কার মত হবে না,  আমাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত। কারন বাংলাদেশ যার হাতে পরিচালনা হচ্ছে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি কখনও বাংলাদেশের মাথা নিচু হতে দিবেন না।