• সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

  • || ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জ্বালানি খাত উন্মুক্ত করে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২  

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘খাত উন্মুক্ত করে দিলে প্রাইভেট সেক্টর জ্বালানি তেল আমদানি করে রিফাইন করে সরাসরি বিক্রি করতে পারবে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ওপেন মার্কেটের দর অনুযায়ী ডিস্ট্রিবিটরের কাছে বিক্রি করবে। তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধরতে দর কমাবে। রেগুলেটরি কমিশন বিষয়টি নজরদারি করবে।’

জ্বালানি খাত উন্মুক্ত করে দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। ডিসেম্বরে এ-সম্পর্কিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিকভাবে বা উন্নত দেশগুলোর স্ট্যান্ডার্ড হলো তারা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দর দৈনিক ভিত্তিতে ঠিক করে থাকে। বিশ্ব বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে বাড়ে। আবার কমলে কমে। এটাকে বলে ওপেন মার্কেট। আমরা সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপেন মার্কেটে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খাত উন্মুক্ত করে দিলে প্রাইভেট সেক্টর জ্বালানি তেল আমদানি করে রিফাইন করে সরাসরি বিক্রি করতে পারবে। এলপিজির মতো। আবার ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছেও বিক্রি করতে পারে। তবে সরকারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবে না।

‘ওপেন মার্কেটে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট সেক্টর প্রতিযোগিতা করবে। তারা বাজার ধরতে দর কমাবে। রেগুলেটরি কমিশন তা নজরদারি করবে।’ পাওয়ারের ক্ষেত্রেও সরকার একই পথে হাঁটছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ যারা উৎপাদন করবে, ওপেন মার্কেটের দর অনুযায়ী তারা ডিস্ট্রিবিটরের কাছে বিক্রি করবে। ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কী দরে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করবে তা রেগুলেট করবে রেগুলেটরি কমিশন। এখানে আস্তে আস্তে ভর্তুকি থেকে সরে আসার ঘোষণা থাকবে।

‘তখন প্রাইসে কী পরিবর্তন আসতে পারে, আমরা সেটা দেখছি। এখন জ্বালানির দর যেহেতু বেশি, সে জন্য বিদ্যুতের প্রাইসটা অ্যাডজাস্ট করতে হচ্ছে। একসময় জ্বালানির দাম কমে আসবে। তখন যেন দেশেও দামটা কমে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওপেন মার্কেটে একটা সুবিধা আছে। সরকার তখন ওই জায়গা থেকে ভর্তুকির বিষয়টায় থাকে না। দায়-দায়িত্ব তখন এককভাবে সরকার নিজের মাথায় নেয় না।’ নসরুল হামিদ বলেন, ‘এক সময় ফিনিশড তেলের দর ব্যারেল প্রতি ছিল ৭০ ডলার। এখন তা হয়ে গেছে ১৪০ ডলার। এই দাম বৃদ্ধির ঘটনায় দাম অ্যাডজাস্ট করতে গিয়ে সরকার কিছুটা সমালোচিত হয়েছে। জিনিসপত্রের দামে প্রভাব পড়েছে।

‘ওদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিন্তু লসই করছে আল্টিমেটলি। কারণ যে পরিমাণ লস হচ্ছে তার পুরোটা এখন পর্যন্ত অ্যাডজাস্ট করতে পারেনি বিপিসি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মার্কেটের ওপর দর ছেড়ে দিলে দাম বাড়লেও ধীরে ধীরে বাড়বে। আর যখন আন্তর্জাতিক বাজারে কমবে, তখন এখানেও তা আপনা থেকেই কমে আসবে। মার্কেট নিজেই দাম কমিয়ে আনবে।

‘এখানে যে বিষয়টি রয়েছে তা হলো, এই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। আরেকটি বিষয় হলো কম্পিটিশন। ফুয়েল ও পাওয়ার বা এনার্জির দর অ্যাডজাস্ট হওয়া উচিত মার্কেটের অ্যাবিলিটির ওপর। ডিমান্ডের ওপর।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে কোনো কোনো জায়গায় ভর্তুকি দিয়ে দর সমন্বয় করা দরকার, তাহলে তা করবে। সেটা হলো পরবর্তী ব্যবস্থা। কিন্তু এখানে অনবরত দর বাড়াচ্ছি না কমাচ্ছি এই প্রশ্নগুলো তখন আর থাকবে না। আমরা এই বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাই করছি।

‘পার্শবর্তী দেশ কয়েকটি স্টেটে এই কাজ করছে। উন্নত দেশগুলো এই পদ্ধতিতে চলে গেছে। দেখা যাক ভবিষ্যতে আমরা এই দিকে যেতে পারি কিনা। ‘আমরা ডিসেম্বরে এ বিষয়ে একটি মিটিং করব। অন্যান্য দেশ কিভাবে এটা বাস্তবায়ন করছে আমরা এখন সে তথ্য নিচ্ছি। এই তথ্যের ভিত্তিতে এটা বাস্তবায়ন করা হবে।’