• শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৭ ১৪২৯

  • || ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দুর্নীতি রুখতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯  

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেশ সরবে যুদ্ধ শুরু করেছে সরকার। এ ব্যাপারে ‘জিরো-টলারেন্স’ দেখানোর অঙ্গীকার করে টানা তৃতীয় দফায় সরকার গঠনের পরই কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নবনিযুক্ত মন্ত্রীরাও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো ভাষায় কথা বলছেন। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান।

তবে সমাজ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সর্বস্তরে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরী। সমাজে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরী।

নীরব ঘাতকের মতো দুর্নীতি প্রসার লাভ করছে। দুর্নীতি সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাস করছে প্রতিনিয়ত। এ পরিস্থিতি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার পক্ষে রোধ করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজকে না বলুন- ঘরে ঘরে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দুনীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে।

সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে একটি যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে সেভাবেই আরেকটি যুদ্ধ হওয়া উচিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সমাজকে অসততার চেইন থেকে মুক্ত করার এই যুদ্ধ শুধু সরকারের একার নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সরকারের উঁচু মহল থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিলেও তা তেমন সুফল বয়ে আনবে না যতক্ষণ না এর সঙ্গে সর্বস্তরের জনগণ জড়াবে। সরকারের উদ্যোগ এবং জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই সম্ভব দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সফল অভিযান। সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো অন্যায় ও অসততাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব।

প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে উঁচু থেকে নিচু পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্বশীলদের মধ্যে দুর্নীতির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। সমাজের সবস্তরের মানুষকে এই অভিযানে ব্যাপক হারে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতি ও অসততার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তা অবশ্যই রোধ করা সম্ভব। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করার একটা প্রবণতা দিন দিন সমাজে প্রবল হচ্ছে। আমরা চোখের সামনে অন্যায় দেখেও তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছি না। নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছি না। ফলে অন্যায়কারীরা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এজন্য সমাজ থেকে দুর্নীতি রুখতে হলে আগে সবাইকে সচেতন করতে হবে। সমাজের সর্বশ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া দুর্নীতি রোধ করা যাবে না।

জাতির জনক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুধু রাষ্ট্রের একার পক্ষে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব নয়। এই ব্যাধির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

সরকার, প্রশাসন, জনগণ সবাই সম্মিলিত হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অসততার চেইন ভেঙে যাবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে এলে উন্নয়ন ও প্রগতির পথে আমাদের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।