• বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১৪ ১৪২৮

  • || ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘হাইকোর্টের আদেশ সংবিধান পরিপন্থী’

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৮  

দণ্ডিত ব্যক্তি হাইকোর্ট থেকে দণ্ড বা সাজা স্থগিত করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের এই আদেশ সংবিধান পরিপন্থী।’

হাইকোর্টের একক বেঞ্চের আদেশের পর অ্যার্টনি জেনারেলের নিজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মাহবুবে আলম।

এর আগে হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক বেঞ্চ আদেশ দেন বিচারিক আদালতের দণ্ড হাইকোর্টে স্থগিত হলে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ আদেশের ফলে সম্পদের গরমিল তথ্য দুদকে দেয়া-সংক্রান্ত মামলায় দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানার নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই।

এ আদেশের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ একই রকম মামলার আদেশে বলেছিলেন, নির্বাচনের উদ্দেশ্যে কেউ দণ্ড বা সাজা স্থগিত করার পর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এরপর সেই আদেশের বিরুদ্ধে এক বিএনপিপন্থী নেতা আপিল করেন। পরে সেই আবেদনে আপিল বিভাগ থেকে কোনো আদেশ দেননি। ফলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহালই রইলো আপিল বিভাগে।’

‘এর একদিন পর আজ হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ বলেন, দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা হাইকোর্টে স্থগিত হলে দণ্ডিতরা নির্বাচন করতে পারবেন। তাহলে তো এটা পূর্বের আরেকটি হাইকোর্ট বেঞ্চের বিপরীতধর্মী আদেশ হলো। ফলে হাইকোর্টের আজকের আদেশটি সংবিধান পরিপন্থী। তাই এ আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিলে যাব’, বলেন মাহবুবে আলম।

গত ১২ জুলাই সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় সাবিরা সুলতানাকে ৬ বছরের দণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করলে তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট।

গত ৬ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এরপর সাবিরা সুলতানা তার সাজা ও দণ্ড স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার সাজা স্থগিত করে আদালত আদেশে বলেন, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা ও দণ্ড স্থগিত হলে ওই ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ এক আদেশে বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগে কোনো ব্যক্তি দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি খালাস না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারবেন না।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছিলেন।

আর এ আদশের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘খালাস পেলেও খালাসের দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছর নির্বাচন করতে পারবেন না।’