• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

মাটি ব্যবসায়ীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেল পিতাপুত্র

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২২  

ধামরাইয়ে সূয়াপুর ইউনিয়নের ঈশাননগর গ্রামের সাবেক মেম্বার তারু মিয়া এবং সূয়াপুর উত্তরপাড়ার নিজামউদ্দিন বেপারীর ছেলে রাসেদুল ইসলাম রাসেল (২৮) এলাকায় মাটির ব্যবসা করে আসছে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।  এ বিরোধকে কেন্দ্র করে রাসেলকে ইয়াবাসহ আটকের নাটক সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে চেয়ারম্যান পুত্র আবদুল হালিম। তবে পুলিশ রাসেলের সাথে কোন ইয়াবা পাননি। পরবর্তীতে নাটকের নায়কদের খোঁজতে থাকে পুলিশ। এতে দেখা যায় রাসেলকে তারু মেম্বারসহ কয়েকজন মিলে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে তারা নিজেরাই ফেঁসে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলার পর পিতাপুত্রসহ তিনজন আটকের পর আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে সূয়াপুর ইউনিয়নে।  

 ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমানের কাছ থেকে জানা গেছে, সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের ছেলে আবদুল হালিম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধামরাই থানার ওসি আতিকুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানান, ২৪পিস ইয়াবাসহ রাসেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ওসি তার কথামত এসআই সজিব হোসেন তালুকদারকে পাঠান ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে গিয়ে এসআই সজিব লোকজনের উপস্থিতিতে রাসেলকে তল্লাশি করেন। কিন্তু তার কাছে কোন ইয়াবা পাননি তিনি। ওই সময় চেয়ারম্যান পুত্র আবদুল হালিম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও ২৪ পিস ইয়াবা দেখাতে পারেননি। এরপরও রাসেলকে থানায় আনা হয়। তাকে মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সারাদিন থানায় রাখা হয়।

এদিকে ওসি আতিকুর রহমান রাসেলের বিষয়ে এলাকায় যাচাই করতে থাকেন। এতে রাসেল ইয়াবা ব্যবসাতো দূরের কথা ধূমপানও করেন না বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পারেন। পরবর্তীতে রাসেলকে ছেড়ে দেন তিনি। 
এদিকে রাসেলকে যারা ইয়াবা দিয়ে ফেসাতে চেয়েছে তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে থাকেন এসআই সজিব তালুকদার। এতে তদন্তে বেরিয়ে আসে ঈশাননগর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য তারু মিয়ার সাথে মাটির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে রাসেলের। রাসেলকে ফাঁসাতে ২৪ পিস ইয়াবার নাটক সাজান তিনি। 

 এ ঘটনায় তারু মিয়া,তার ছেলে আমিনুর, হামিদুর ও লিটনসহ সূয়াপুর গ্রামের মটর শ্রমিকলীগ নেতা আবুলসহ অজ্ঞাত ৩/৪জনের নামে রাসেল বাদি হয়ে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় বুধবার রাতে তারু মিয়া ও তার ছেলে হামিদুর এবং আবুলকে গ্রেফতার করে ধামরাই থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। 

এরআগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাসেলকে ফুলতলা বাজার এলাকা থেকে ইয়াবাসহ আটকের খবর পেয়ে চৌকিদার আবদুর রহিমকে ঘটনাস্থলে পাঠান চেয়ারম্যান পুত্র আবদুল হালিম। চৌকিদার সেখান থেকে রাসেলকে নিয়ে আসে সূয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, তারু মিয়া ও চেয়ারম্যান পুত্র আবদুল হালিম একই সূত্রে গাঁথা।

আবদুল হালিম একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছে। কারো বিরুদ্ধে কিছু হলেই বিচার সালিশের মাধ্যমে মিসাংসার নামে তারা জরিমানা আদায় করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা থাকেন।