• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ কাটার অভিযোগ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২২  

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মনোরউদ্দিন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিনা অনুমোতিতে স্কুলের গাছ কেটে অর্ধ লক্ষ টাকা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। 

জানা যায়, স্কুলের ছায়াদানকারী ও অক্সিজেন প্রদানকারী ৫ টি গাছ কোন টেন্ডার ও সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গত ৮ এপ্রিল শুক্রবার স্কুল বন্ধের দিন দেখে ৩ টি মেহগনি গাছ, ১টি নীম গাছ ও ১ টি কদম গাছ মোটা অংকে বিক্রি করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাছ কাটার স্থান মাটি দিয়ে পুতে রাখা হয়েছে। এ ব্যপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক কর্মচারি জানান, স্কুল বন্ধের দিন শুক্রবার  দেখে গাছ গুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন না জানে এর জন্য এক দিনের মধ্যেই সব গাছ সরিয়ে ফেলে কাঁটা গাছের গোড়া মাটি দিয়ে পুঁতে ফেলা হয়েছে। গাছ কতো টাকা এবং কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে জানতে চাইলে,  এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে জানান তিনি।

সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্কুলের গেটের ভিতরে এই গাছগুলি কাটা ঠিক হয় নাই, গাছগুলো প্রখর রোদের সময় ছায়া দিত। এই গাছের নিচে ছাত্রীরা খেলাধুলা করত। গাছ কেটে ফেলার কারনে স্কুলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

মুঠোফোনে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের সাথে সমন্বয় করে রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। 

টেন্ডার ও সরকারি কোন অনুমতি না দিয়ে গাছ বিক্রির কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, স্কুলে অপেক্ষা করুন আপনার সাথে সরাসরি কথা বলতে আমরা লোক পাঠাচ্ছি।

প্রতিবেদক অপেক্ষা করার পর উবাইদুল শিকদার বিল্টু নামে এক লোক এসে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা, সাংবাদিক, ডাক্তার এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দাবি করে বলেন, আমরা যা করেছি আপনাকে রেজুলেশন খাতা দেখাতে যাব কেন? টেন্ডার ও সরকারি কোন অনুমতি ছাড়া স্কুলের গাছ বিক্রি করা ঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কে সরকারি আইন শেখাইতে আইসেন না আমরা রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করেছি। তবে তাদের কাছে রেজুলেশন খাতা দেখতে চাইলি তারা কোন রেজুলেশন খাতা দেখাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিগার সুলতানা চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে স্কুলের গাছ তারা অনুমতি ব্যতীত বিক্রি করতে পারে না। তারা যদি টেন্ডার ছাড়া গাছ বিক্রি করে থাকে তা হলে অবশ্য'ই ব্যবস্থা নেব।

উপজেলার বন কর্মকর্তা মোশারফ জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সরকারি গাছ কাটতে হলে সঠিক কারন দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে। তারপর আমরা পরিমাপ করে দিলে তারা গাছ কাটতে পারবে।

এ ব্যপারে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।