• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

হত্যার আগে স্ত্রীর কপালে চুমু দিয়ে মাফ চেয়ে নেন রুবেল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২২  

ভালবেসে বিয়ের ২০ বছর পর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করেন আসাদুজ্জামান রুবেল (৪০)। প্রথমে স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি। হত্যার আগে স্ত্রীর কপালে চুমু দিয়ে মনে মনে মাফ চেয়ে নেন রুবেল।

 রোববার ভোরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনার পর স্বামী আসাদুজ্জামান রুবেলকে গ্রেফতার করেছে গ্রেফতার পুলিশ। ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে আঙ্গারপাড়া গ্রাম শোক বইছে।


এদিকে ঘাতক আসাদুজ্জামান রুবেল স্ত্রী ও দুই কন্যা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দিয়েছেন। 

নিহতরা হলেন- আসাদুজ্জামান রুবেলের স্ত্রী লাভলী আক্তার (৩৫), বড় মেয়ে বানিয়াজুরী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোঁয়া আক্তার (১৬) ও ছোট মেয়ে বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কথা আক্তার (১২)।

এদিকে ঘটনার পর ঘাতক আসাদুজ্জামান রহমান রুবেল (৪০) নিজে আত্মহত্যার জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শুয়ে পরলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

স্ত্রী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কন্যাসহ দুই কন্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংস ভাবে জবাই করে হত্যার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে লাখ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হওয়ায় ও মানসিক হতাশা থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

নিহত লাভলীর ভাই মো. আলম জানান, তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। কলহের পরিণতি এভাবে হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি।

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে রুবেল বলেছেন, ঋণগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার রাতে আমার সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর ঘুমিয়ে পড়ে লাভলী। এরপর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রথমে ঘুমন্ত স্ত্রীর মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন তার ভালবেসে বিয়ে করা স্ত্রীর কপালে চুমু দিয়ে মনে মনে মাফ চেয়ে নিই। এরপর বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করি। পরে ছোট মেয়ে কথা আক্তার (১২) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গলায় ছুরি দিয়ে হত্যা করি। এরপর বড় মেয়ে ছোঁয়া আক্তারকেও একইভাবে হত্যা করি।

ত্রিপল মার্ডার প্রসঙ্গে ঘিওর থানার ওসি মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব জানায়, রোববার ভোর রাতের কোনো এক সময় তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পারিবারিক কলহের জের ধরে জবাই করে হত্যা করেন রুবেল। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মাসহ দুই মেয়ে হত্যাকাণ্ড নিয়ে শিবালয় সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নুরজাহান লাবনী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ৩টি মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।