• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

প্রসূতির মৃত্যু, ধামাচাপার চেষ্টা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২২  

ভুল অস্ত্রোপচারে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাবিনা আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রসূতি উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের টাকিমারা গ্রামের মুখলেছ মিয়ার স্ত্রী ও জয়মন্টপ ইউনিয়নের উত্তর বাহাদিয়া গ্রামের ছকেল উদ্দিনের মেয়ে। রবিবার (২২ মে) ভোর রাতে পৌর এলাকার ভাষা শহিদ রফিক সড়কে অবস্থিত সিটি হাসপাতাল এণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।


চাপ সৃষ্টি করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রসূতির স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রসূতির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের টাকিমারা গ্রামের মুখলেছ মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তারের প্রসব বেদনা উঠলে গত শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তাকে পৌর এলাকার ভাষা শহিদ রফিক সড়কের সিটি হাসপাতাল এণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। নরমাল ডেলিভারি না হওয়ায় রবিবার রাত ৩টার দিকে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. ইমা বিনতে ইউনুছকে ডেকে এনে তার অস্ত্রোপচার করানো হয়। তার গর্ভে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

নিহত প্রসূতি সাবিনার শাশুড়ি মনোয়ারা বেগমসহ একাধিক স্বজন অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে অধিক রক্তক্ষরণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেই সাবিনার মৃত্যু হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দেখতে চাইলেও তার দ্বারে-কাছেও যেতে দেয়নি নার্সরা। এক পর্যায়ে আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে এনে সাবিনাকে মৃত অবস্থায় ঢাকার শহীদ সোহরাওযার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পাঠিয়ে দেয়।  

স্বজনরা আরো জানান, প্রভাবশালী মহল দ্বারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন প্রসূতির মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেন, প্রসূতি সাবিনা একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। সে আগে থেকে শ্বাসকষ্ট ও রক্তশুন্যতায় ভুগছিল। আমরা প্রথমে তার নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করেছিলাম। নরমাল ডেলিভারি না হওয়ায় প্রসূতি সাবিনা ও তার মা জহুরা বেগমের অনুরোধে ডা. ইমা বিনতে ইউনুছকে ডেকে এনে রাত ৩টার দিকে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট ও রক্তশুন্যতা দেখা দিলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। পরে সকাল ১১টার দিকে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে শুনেছি সে মারা গেছে। এখন নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে জানতে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. ইমা বিনতে ইউনুছের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য জানা যায়নি। সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।