• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

শিবালয়ে বাসচাপায় দুই সচিব নিহতের ঘটনায় চালকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২২  

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী সংযোগ মোড়ে বাসচাপায় দুই সচিব নিহতের ঘটনায় বাসচালককে ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও দুই লাখ ৬ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য্য।

নিহতরা হলেন- মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব রিজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান।

দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামী হলেন দ্রুতি পরিবহনের বাস চালক মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কামার খেলা গ্রামের মৃত হানিফের ছেলে। তিনি বর্তমানে জামিনে পলাতক রয়েছেন।

আনোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৭৯ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৩০৪-খ ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, ৩৩৮-ক ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৪২৭ ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে। বর্ণিত সাজাগুলো একটির পর একটি কার্যকর হবে। একই সাথে আসামীর উপর ৩০৪-খ ধারায় আরোপিত অর্থদন্ডের টাকা আদায় করে নিহত দুই পরিবারকে সমহারে প্রদান করার নির্দেশও দেন আদালত।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৩১ জুলাই মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রিজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাজারো জিপ গাড়িতে করে গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। শিবালয় উপজেলার উথলী সংযোগ মোড়ে সকাল সাতটার দিকে দ্রুতি পরিবহনের বাসটি তাদের গাড়িকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাদেরকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় সেদিনই বিসিক প্রধান কার্যালয় ঢাকার এজিএম মো. সামসুল হক বাদী হয়ে শিবালয় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল ইসলাম ভূইয়া ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট ফেব্রুয়ারি একজনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ২৫ জনসাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়।