• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দেড় কোটি টাকার রাস্তায় বালুর পরিবর্তে কাদামাটি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২২  

দেড় কোটি টাকার রাস্তায় নিয়ম মোতাবেক বালু দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও প্রকাশ্যে ড্রেজিং করা কাদামাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা। কেটে নেয়া হয়েছে অসহায় এতিম সংখ্যালঘু দু’টি মেয়ের আবাদি জমি। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে অভিযোগ দেয়ার পরও একইভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাউকে তোয়াক্কা না করে রাস্তায় কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা আতোয়ার রহমান কাঙ্গাল।

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের কোনাবাড়ী শাকরাইল (আয়নালের বাড়ি থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত) ১৬৫০ মিটার রাস্তাটি নির্মাণ হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অধীনে এক কোটি ৪৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে। জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে এম কনস্ট্রাকশন। এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে সাব-কন্ট্রাকটর হিসেবে কাজ করছেন মহাদেবপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আতোয়ার রহমান কাঙ্গাল।

এ কাজটি শুরু হতেই আতোয়ার রহমান কাঙ্গালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে অনিয়ম-দুর্নীতি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজির অভিযোগ, জোর করে রাস্তার পাশের আবাদি জমি বেশি করে কেটে নেয়া ইত্যাদি।

রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত গোপাল চন্দ্র শীল ও মৃত লক্ষ্মী রানী শীলের অসহায় এতিম দুই মেয়ে শ্যামলী রানী শীল ও লিমা রানী শীল লিখিত অভিযোগে বলেন, সাব-কন্ট্রাকটর আতোয়ার রহমান কাঙ্গাল রাস্তার পাশে তাদের সাড়ে ২৩ শতাংশ জমির প্রার ১৫ শতাংশ জমি ভেকু দিয়ে কেটে নিয়ে গেছে। আবার রাস্তার বেশির ভাগ অংশ তাদের জায়গার উপর দিয়ে নিয়েছে। বারবার নিষেধ করার পরও তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি কাঙ্গাল। তারা এলজিইডির মানিকগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী, শিবালয় উপজেলা প্রকৌশলী, মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বারাবর এ ঘটনার সমাধান ও বিচার চেয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযোগে শ্যামলী ও লিমা উল্লেখ করেন, আমাদের বাবা গোপাল চন্দ্র শীল ১৯৯২ সালে মারা যাওয়ার সময় আমাদের দুই বোনকে দুই বছর ও এক বছর রেখে যান। আমার মা লক্ষ্মী রানী শীল ২০১১ সালে মারা যান। আমার দাদু মহিন্ড চন্দ্র শীল অতি দরিদ্র মানুষ ছিলেন। শেষের দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চোখে কম দেখার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েন। তিনি আমাদের খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে বড় করেছেন। তিনিও গত রোজার ঈদের দিন রাতে মারা গেছেন। আমাদের দাদুই আমাদের দুই বোনকে কোনাবাড়ী-শাকরাইল নির্মাণাধীন রাস্তার দক্ষিণ পাশে ২৩.৫ শতাংশ জমি দান করেন। নিজেকে ঠিকাদারের লোক বলে পরিচয় দেয়া (সাব-কন্ট্রাকটর) আতোয়ার রহমান কাঙ্গাল সেই জমিটুকুও প্রায় কেটে মাটি নিয়ে রাস্তায় দিলেন। এখন ২৩.৫ শতাংশের মধ্যে সর্বোচ্চ আট শতাংশ জমি বাকি আছে। সামনে বর্ষায় পানি আসলে বাকি জমিটুকুও ভেঙে যাবে। জমি কেটে খাল করা স্থানটি ভরাট করে দেয়ার কথা দিলেও তিনি দিচ্ছেন না; বরং সরকারদলীয় লোক বলে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
গত ৮ জুন বিভিন্ন দফতরে তারা তাদের অভিযোগ দাখিল করেন; কিন্তু গত ছয় দিন পার হলেও তারা কোনো সমাধান পাননি।
এ বিষয়ে আতোয়ার রহমান কাঙ্গালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন আমি চাচ্ছি রাস্তাটি যাতে না হয়। জীবনে অনেক রাস্তা করেছি, এটা না হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই।
ভালো বালু অন্য স্থান থেকে এনে রাস্তা করার কথা থাকলেও আপনি কেন পাশ থেকে ড্রেজিং করে কাদামাটি ফেলছেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, যেখান থেকেই আনি, রাস্তায় ফেললেই হলো। কেন কাদামাটি ফেলছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে কাদা ফেলা হয়েছিল, তবে এখন ভালো বালু আসছে ড্রেজিং থেকে। এতিম মেয়েদের জায়গা কেটে নেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সময় হলে তা ভরাট করে দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে এলজিইডির শিবালয় উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, আমরা রাস্তায় গিয়ে দেখেছি বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ফেলা হয়েছে। কাদাামাটি আবার রাস্তা থেকে উঠিয়ে ফেলে বালু দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি এবং এ কাজোর সাথে সাব-কন্ট্রাকটর আতোয়ার রহমান কাঙ্গাল জড়িত বিধায় তাতে সাইট থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
এলজিইডি মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুল হক বলেন, আমার কোনো অনিয়ম মানবো না। অবশ্যই এতিম মেয়েদের জায়গা ভরাট করে দেয়া হবে। উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি দেখার জন্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি। মূল ঠিকাদারের সাথেও আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।