• শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯

  • || ১৪ মুহররম ১৪৪৪

এদের নিয়েই লড়বে বিএনপি!

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৮  

বিএনপি জামায়াত আমলে ২০০৪ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আমিনুল হক, ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও তখনকার সাংসদ নাদিম মোস্তফার বিরুদ্ধে জেএমবি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইকে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করার অভিযোগ ছিল।

রানীনগর ও আত্রাই উপজেলায় বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে জঙ্গিরা ‘সর্বহারা’দমনের নামে হত্যা-নির্যাতনসহ অরাজকতা কায়েম করে। ২০০৬ সালের মার্চে গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলা ভাই টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে যে জবানবন্দি দেন, তাতে আমিনুল হক, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার ও নাসিম মোস্তফার সহযোগিতা পাওয়ার কথা বলেছিলেন।

তাদের মদদেই গোটা রাজশাহী অঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো বাংলা ভাই ও তার সহযোগীরা। বিএনপির এই তিন প্রভাবশালী নেতার আশেপাশেও বহুবার দেখা গেছে দুধর্ষ বাংলা ভাইকে। এবারও এই তিনজন দলীয় মনোনয়ন পেলেন।

আলোচিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শোকরানা। খুন-হত্যায় জড়িত থাকাসহ বগুড়ার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপি তাকে মনোনয়ন দিয়েছে বগুড়া–১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে।

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আব্দুল মোমিন তালুকদার। তিনি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামী। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পলাতক আছেন। পাক হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ নানা অপকর্ম করারা অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিতর্কিত সাবেক সাংসদ গোলাম মাওলা রনি। যুদ্ধাপরাধীদের পদলেহন, ব্যাপক দুর্নীতির পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের লাঞ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মনোনয়ন পেয়েছেন ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত নেতারাও। ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় দেখা যায়, সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত প্রায় সবাই মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে আবু হেনা (রাজশাহী-৪), আলমগীর কবির (নওগাঁ-৬), জহিরউদ্দিন স্বপন (বরিশাল-১), সাখাওয়াত হোসেন বকুল (নরসিংদী-৪) এবং শহীদুল হক জামালকে (বরিশাল-২) মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়েছে।

এসব আসনেও মনোনয়ন তালিকায় দুটি করে নাম রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এদের সকলেই লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়াকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপি তাদের মজ্জাগত দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে মদদ দানের অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। অন্যদিকে সংস্কারপন্থীদেরও মনোনয়ন দিয়ে দলটি তাদের দেউলিয়াত্বকে আরও স্পষ্টভাবে জনগণের মাঝে নিয়ে এলো।

সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে আরো অনেকখানি পিছিয়ে পড়লো বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতনেরা।