• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

নৌকার পক্ষে ৩ লাখ শিক্ষক

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮  

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে জয়ী করতে ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক একযোগে মাঠে নামার ঘোষাণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি।

জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ।

তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে রাখায় বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তিনি শিক্ষকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থেকে শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় সহকারী শিক্ষকদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকেও শিক্ষক নেতাদের পক্ষে ধন্যবাদ জানান তিনি।

মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে কোনো ধরনের বেতন বৈষম্য ছিল না। ২০০৬ সালে সহকারী শিক্ষকদের দুই গ্রেড নিচে নামানো হয়, ২০১৪ সালে এসে সেটি ৩ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড (১২ হাজার ৫০০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৪তম গ্রেড (১০ হাজার ২০০ টাকা) পাচ্ছেন।

এতে করে ১৬ বছর চাকরি করার পর একজন প্রধান শিক্ষরের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকের বেতন-ভাতায় ২০ হাজার টাকা ব্যাবধান তৈরি হচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষক যে স্কেলে চাকরি শুরু করেন সেখানে একজন সহকারী শিক্ষক সেই স্কেলেরও এক গ্রেড নিচে চাকরি থেকে অবসর নেন। এটি আমাদের জন্য অসম্মানের একটি বিষয়।

‘সহকারী শিক্ষকদের ৩ ধাপ বেতন বৈষম্য নিরসনে দীর্ঘ পাঁচ বছর আন্দোলন করার পরও আমাদের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আমরা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীন মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর আমরণ অনশন পালন করি। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, সচিব ও প্রাধমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এসে আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আমার অনশন ছেড়ে বাড়ি চলে যাই। এরপর ১১ মাস পার হলেও আজও আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

সংগঠনের শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারি প্রধান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদা না দিয়ে দেশের শিক্ষার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, শিক্ষকদের মর্যদা দিয়েই তা করতে হবে। এ দাবি থেকে আমরা একচুলও সরে যাব না। বর্তমানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কতৃজ্ঞ প্রকাশ করছি।

তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে আমাদের এ দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য সারাদেশে প্রায় ৩ লাখ সহকারী শিক্ষক একযোগে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এছাড়া শিক্ষকদের দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরার ভূমিকা রাখায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ড. সেলিম মাহমুদের প্রতিও কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ তাঁতীলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম সোহেল, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, ওমর খৈয়াম বাগদাদী, ইলিয়াস মিয়া, আবদুল বাতেন, আবদুল হালিম, আবদুল কাদের, ফাতেমা চৌধুরী পিনু, নজরুল ইসলাম, রাজা মুরাদ প্রমুখ।